বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগের জন্য চীনের হাইনান প্রদেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
মঙ্গলবার চীনের হাইনান প্রদেশের বোআও ল্যেছেং আন্তর্জাতিক মেডিকেল ট্যুরিজম পাইলট জোনে প্রদেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান। বৈঠকে হাইনান প্রাদেশিক কমিউনিস্ট পার্টির কমিটির সম্পাদক ফেং ফেই ও ভাইস গভর্নর শিয়ে জিং উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও চীনের সুদৃঢ় সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্য খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়াতে চায় বাংলাদেশ।’
তিনি বলেন, ‘সরকার প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ২০টি বড় হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব হাসপাতাল প্রতিষ্ঠায় চীনের কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ প্রত্যাশা করছি।’
বৈঠকে বাংলাদেশি মেডিকেল শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, চিকিৎসক বিনিময় ও প্রশিক্ষণ, উষ্ণমণ্ডলীয় রোগ প্রতিরোধ এবং ট্র্যাডিশনাল চাইনিজ মেডিসিন নিয়ে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়। স্তন ক্যানসার, হাম, ডেঙ্গু ও থ্যালাসেমিয়াসহ বিভিন্ন রোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের উদ্যোগ ও চ্যালেঞ্জ নিয়েও আলোচনা হয়।
বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘গ্লাভস, মাস্ক ও ব্লাড ব্যাগসহ চিকিৎসাসামগ্রী উৎপাদনে হাইনানভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন করতে পারে। এতে দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত পণ্য রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে।’
হাইনানের কর্মকর্তারা বাংলাদেশি চিকিৎসকদের সফর, চিকিৎসা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। উভয় পক্ষ স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে।
বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলে ছিলেন মন্ত্রীর একান্ত সচিব এবিএম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের উপসচিব ফাতিমা-তুজ-জোহরা ঠাকুর, চীনে বাংলাদেশ দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর মো. জিয়াউর রহমান ও মালিশা গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক মারুফ মোল্লা।


