কক্সবাজারের টেকনাফে জেলের ছদ্মবেশে নৌকায় অভিনব কৌশলে পাচারের সময় প্রায় ৪২ কোটি টাকা মূল্যের ১৪ লাখ ইয়াবা জব্দ করেছে বিজিবি। এ সময় দুইজনকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা সীমান্তের সুইচ গেট সংলগ্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় ইয়াবা বহনে ব্যবহৃত একটি নৌকাও জব্দ করা হয়।
বিজিবি জানিয়েছে, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৬৪ বিজিবি অধিনায়কের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় হ্নীলা সীমান্ত ফাঁড়ির একটি বিশেষ দল সুইচ গেট সংলগ্ন এলাকায় কৌশলগত অবস্থান নেয়। পরে একটি নৌকার গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে বিজিবি সদস্যরা সেটিকে থামার সংকেত দেন।
এ সময় নৌকায় থাকা দুই ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা তাদের আটক করেন। প্রাথমিকভাবে নৌকায় তল্লাশি চালিয়ে কোনো ইয়াবা পাওয়া যায়নি। পরে সন্দেহের কারণে নৌকাটি আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
একপর্যায়ে নৌকার সঙ্গে দড়ি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় পানিতে ভাসমান কয়েকটি বস্তা দেখতে পান বিজিবি সদস্যরা। পরে বস্তাগুলো উদ্ধার করে তল্লাশি চালিয়ে খাকি রঙের প্যাকেটে মোড়ানো ১৪০টি কার্টনে রাখা ১৪ লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে একটি বড় ইয়াবার চালান বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করছে, এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছিল। পাশাপাশি প্রযুক্তিনির্ভর পর্যবেক্ষণ ও টহল কার্যক্রমও বাড়ানো হয়।
তিনি বলেন, চোরাকারবারিরা রাতের আঁধারে পাচারে সুবিধা করতে না পেরে দিনের বেলায় জেলের ছদ্মবেশে নৌকায় করে ইয়াবার চালানটি পাচারের চেষ্টা করে। নৌকার ভেতরে ইয়াবা না রেখে দড়ির সাহায্যে বস্তাগুলো নৌকার সঙ্গে বেঁধে পানিতে ভাসিয়ে রাখা হয়েছিল।
বিজিবির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। সীমান্ত এলাকায় নানা প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও জনবল বৃদ্ধির মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করা হচ্ছে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ ও ৪ সেপ্টেম্বর হ্নীলা সীমান্তের অবরাং এলাকা দিয়ে পৃথক দুটি ইয়াবার চালান পাচারের চেষ্টা করা হয়েছিল। ওই সময় প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে দুইজনকে আটক এবং তিন লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ করা হয়।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে বুধবার পর্যন্ত উখিয়া ব্যাটালিয়ন (৬৪ বিজিবি) প্রায় এক কোটি ৪৩ লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দ এবং ২৪৩ জন আসামিকে আটক করেছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।
জহিরুল ইসলাম বলেন, বিজিবির সদর দপ্তরের দিকনির্দেশনায় মাদক চোরাচালানের পাশাপাশি জ্বালানি, ভোজ্যতেল ও সার পাচার রোধেও অভিযান অব্যাহত থাকবে। চোরাচালানের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে আইনের আওতায় আনতে বিজিবির প্রচেষ্টা ভবিষ্যতেও চলবে।
বিজিবি জানিয়েছে, আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।


