জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বিএনপিকে ‘লাইনচ্যুত’ না হয়ে আবার ‘লাইনে ফিরে আসার’ আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে দলীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার বিকালে পটুয়াখালী মল্লিকা পার্টি সেন্টারে জেলা এনসিপি আয়োজিত সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সারজিস বলেন, ‘আহ্বান করব বিএনপি যে ধীরে ধীরে লাইনচ্যুত হচ্ছে সেখান থেকে তারা আবার লাইনে ফিরে আসবে।’
‘বর্তমান সরকার স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার কথা বলছে এবং নভেম্বর থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে নির্বাচন করতে চায়। এনসিপিও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে’, বলেন তিনি।
সারজিস বলেন, বাংলাদেশের ৪ হাজার ৬০০ ইউনিয়নে এককভাবে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে এনসিপি। মাঠপর্যায়ে প্রার্থী যাচাই-বাছাইয়ের পাশাপাশি সাংগঠনিক অগ্রগতি মূল্যায়ন ও পুনর্মূল্যায়নের কাজ চলছে।
প্রশাসন নিয়ে তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে এমন কিছু বিষয় দেখা যাচ্ছে, যা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নির্বাচিত সরকার ও প্রশাসনের কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত।
সারজিসের অভিযোগ, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা ক্ষমতাসীন দলের কথামতো চলছেন। ইউএনও ও ওসিরা কথা না শুনলে তাদের পদায়ন বা পদে থাকা নিয়ে সমস্যা তৈরি হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আবার যদি পূর্বের মত বিএনপি সরকার প্রশাসনকে, আমলাতন্ত্রকে দলীয় প্রশাসন ও দলীয় আমলা বানাতে চায় তাহলে এই পরিণতি কিন্তু ভালো হবে না।’
সারজিস বলেন, আওয়ামী লীগ প্রশাসনকে দলীয় করার চেষ্টা করেছিল। তার ভাষ্য, আওয়ামী লীগ নেই, সেই প্রশাসনও নেই। বিএনপি একই চেষ্টা করলে সাম্প্রতিক অতীত থেকে তাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের আহ্বান করব, যারা যোগ্য, পেশাদার, সৎ ও দক্ষ সেইসব কর্মকর্তাদের যোগ্যতার ভিত্তিতে তাদের পদোন্নতি বা পোস্টিংয়ের কাজগুলো করাতে হবে।’
দলীয় আনুগত্য, তোষামোদ, কথা মেনে চলা ও দলীয় সুপারিশের ভিত্তিতে পদায়ন করা হলে প্রশাসনের কার্যালয়গুলো দলীয় কার্যালয়ে পরিণত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিচার বিভাগ নিয়েও বিএনপির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন সারজিস। তিনি বলেন, বিএনপির ৩১ দফায় স্বাধীন ও পৃথক বিচার বিভাগ সচিবালয় প্রতিষ্ঠার কথা থাকলেও সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে ক্ষমতায় আসার পর তারা সেটি প্রতিষ্ঠা করেনি।
সারজিসের অভিযোগ, বিরোধী দল বা অন্য রাজনৈতিক দলের কেউ হলে তাদের আদালতের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে হয়রানি করা হচ্ছে এবং প্রাপ্য জামিন দেওয়া হচ্ছে না। জামিন হবে কি না, তা বিএনপি কার্যালয় থেকে নির্ধারিত হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘এটা তো সেই আমল, সেই সিস্টেম যেটাদ্বারা বিএনপি নির্যাতিত ছিল আওয়ামী লীগের মাধ্যমে।’
দেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গ্যাস ও পানির সংকট নিয়েও কথা বলেন এনসিপির এই নেতা। তিনি বলেন, এগুলো শুধু বিএনপির সংকট নয়, রাষ্ট্রীয় সংকট।
সারজিসের অভিযোগ, সংকটের মধ্যে উচ্চ মূল্যে জ্বালানি ও গ্যাস কেনার ক্ষেত্রে বিএনপির কোনো নেতা, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী বা তাদের স্বজনদের লুটপাটের প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা সেটার আবার খুব অল্প সময়ের মধ্যে শুরু দেখতে পাচ্ছি। আমরা মনে করি এটা অশনিসংকেত।’
সারজিস বলেন, যৌক্তিক বিষয়গুলোতে এনসিপি সহযোগিতা করতে চায় বিএনপিকে। তবে সবকিছু দলীয়ভাবে পরিচালনার চেষ্টা হলে তাদের পক্ষে সহযোগিতা করা সম্ভব হবে না। তখন জনগণের কাতারে নেমে এসে লং মার্চ কর্মসূচিতে যেতে হবে বলেও জানান তিনি।
কর্মসূচিতে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ ও তুষার সরোয়ার, বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুজাহিদ ইসলাম শাহীন এবং এনসিপি নেতা মো. মহিউদ্দিন রনি।


