আমানত ফেরত কার্যক্রম শুরুর প্রথম দুই দিনে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে ১৩ হাজার ৮৯৬ জন গ্রাহক মোট ৫৭৭ কোটি টাকা তুলেছেন। এর মধ্যে মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনেই ৭ হাজার ৮৯৬ জন গ্রাহক তুলেছেন ৩২৭ কোটি টাকা।
এর আগের দিন সোমবার টাকা ফেরত কার্যক্রম শুরুর প্রথম দিনে ৬ হাজার গ্রাহককে ২৫০ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছিল ব্যাংকটি। সেই হিসাবে দ্বিতীয় দিনে প্রথম দিনের তুলনায় ১ হাজার ৮৯৬ জন বেশি গ্রাহক টাকা তুলেছেন। টাকার অঙ্কও বেড়েছে ৭৭ কোটি টাকা।
শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক সোমবার থেকে আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেওয়া শুরু করে। একই দিন ব্যাংকটির অনলাইন অর্থ স্থানান্তর কার্যক্রমও চালু হয়। দীর্ঘদিন তারল্যসংকটে থাকা পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকেরা এর আগে প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেদের আমানত তুলতে পারছিলেন না।
আমানত ফেরত নিতে আগ্রহী গ্রাহকদের কাছ থেকে ১ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর আবেদন নেয় সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক। নির্ধারিত সময়ে ৭৪ হাজার ২১১ জন আমানতকারী মোট ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করেন।
তবে আবেদন করা অর্থের পুরোটা এক সঙ্গে ব্যাংক থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে না। ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবেদুর রহমান সিকদার এর আগে জানিয়েছেন, আবেদন করেও অনেক গ্রাহক টাকা তুলতে আসেননি। ব্যাংক থেকে যোগাযোগ করার পর কেউ কেউ আমানত রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন। আবার কিছু গ্রাহক টাকা তুলে পরে তা ব্যাংকেই পুনরায় জমা করেছেন।
আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। টাকা তুলতে এসে কোনো গ্রাহক যাতে অর্থ না পেয়ে ফিরে না যান, সে জন্য এই অর্থের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়। পাঁচ ব্যাংকের মোট ৭৬১টি শাখা এখনো আলাদাভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সংকটে পড়া পাঁচ ব্যাংক একীভূত করার উদ্যোগ নেয় তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার।


