সাভারের আমিন বাজারে অটোরিকশা চালকদের সঙ্গে তর্কের জেরে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের এক উপ-পরিদর্শককে (এসআই) পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার নাম জুহুরুল ইসলাম (৩০)। রোববার ভোর সাড়ে ৪টায় আমিনবাজার টেনারি পুলিশ ফাঁড়ি ও সাভার পুলিশের যৌথ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।
রোববার সকালে সাভার মডেল থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, শনিবার রাত ১১টার দিকে সাভারের আমিনবাজারের বরদেশী এলাকার বড়দেশীর ২ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় এসবি ব্রাঞ্চের ডিএমপিতে কর্মরত এসআই মো. আলতাফ হোসেনকে তুচ্ছ ঘটনার জেরে সৃষ্ট মারামারির পর পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আরিফ গুরুতর আহত হন।
পুলিশ জানায়, এসআই মো. আলতাফের বাবার নাম জুবায়ের আলী শেখ। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার এনায়েতপুর থানার বাসিন্দা। নিহত এসবি সদস্য আমিনবাজারের বড়দেশী গ্রামের মদিনাসিটি এলাকায় স্ত্রী শিউলি পারভিন ও ছেলেকে নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। একই এলাকায় পাঁচ শতক নিজস্ব জায়গায় তার টিনশেড বাসায় একটি ছোট গার্মেন্টস কারখানায় স্বল্প পরিসরে ট্রাউজার ও গেঞ্জি তৈরি করা হয়।
শনিবার রাত ১০টার পর কারখানার সামনে কারখানার মালামাল বহনকারী অজ্ঞাতনামা অটোচালকের সঙ্গে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তর্কাতর্কি শুরু হয়। ওই তর্কের জেরে রাতে অটোচালক আরও ১৫ থেকে ২০ জন লোক নিয়ে এসে গার্মেন্টসে ভাঙচুর ও হামলা চালায়। তাদের বাধা দিতে গেলে এসআই আলতাফ ও তার ছেলেকে লাঠিসোঁটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে হামলাকারীরা পালিয়ে যান।
পরে তাদের উদ্ধার করে ঢাকা সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হলে রাতেই আলতাফ মারা যান। তার ছেলে আরিফ এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
সাভার মডেল থানার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এ ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে জহুরুল ইসলাম নামের একজনকে আটকের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে। আসামির বাবা মোসলেম উদ্দিন, মা রুপবানু। তিনি বড়দেশী গ্রামের বাসিন্দা। গ্রেপ্তার জহুরুল বর্তমানে সাভার মডেল থানা পুলিশের হেফাজতে আছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘নিহতের কারখানার সামনে গাড়ি পার্কিং করাকে কেন্দ্র করে এই অপ্রীতিকর ঘটনাটি ঘটেছে। গাড়ি চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্ত্বেও এই তর্কটি ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনে।’


