বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত পেরিয়ে ওপারে যাচ্ছে রাসায়নিক সার। বিনিময়ে বাংলাদেশে ঢুকছে মাদক ইয়াবা।
সীমান্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন- চাল, ভোজ্য তেল, জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী এবং ঔষধ পাচারের পর এখন রাসায়নিক সার পাচারে বেশি লাভ পাচ্ছেন পাচারকারীরা।
সূত্র জানায়, সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সরকারি বাহিনীর সাথে বিচ্ছিন্নতাবাদী গেরিলা সংগঠন আরাকান আর্মির (এএ) যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে সারের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে মংডুসহ আরাকানের পশ্চিম অংশে সৃষ্ট প্রচন্ড সার সংকটে চড়া দামের লোভে পাচারকারীরা রাসায়নিক সার পাচারে যুক্ত হয়ে পড়েছেন।
তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বলছে, সার পাচারের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সার পাচারবিরোধী বিশেষ অভিযানে নেমেছে তারা।
নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দক্ষিণাংশের দায়িত্বে থাকা বিজিবির ৩৪ নং ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেফটেনেন্ট কর্ণেল এস এম খায়রুল আলম বলেছেন, সার পাচারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। শীঘ্রই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে।
বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ বিভাগের পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলতি মাসের প্রথম তিনদিনে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত থেকে বিজিবি জওয়ানরা চার হাজার ৪০১ কেজি রাসায়নিক সার জব্দ করেছেন। জব্দকৃত সারের বাজার মুল্য পাঁচলাখ টাকার বেশি।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, ব্যাপক হারে পাচারের কারণে বর্তমানে বাজার থেকে ইউরিয়া ও টিএসপি সার প্রায় উধাও হয়ে গেছে।
তাদের অভিযোগ, পাচারকারীদের সঙ্গে স্থানীয় সার ডিলারদের মধ্যে গড়ে উঠা একটি অদৃশ্য সিন্ডিকেট বাজারে সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে।
সিন্ডিকেটের তত্ত্বাবধানে গোপনে মজুদ করা রাসায়নিক সার উপজেলার ঘুমধুম, বাইশফাড়ি, তম্ব্রু, রেজু এবং চাকঢালা সীমান্ত পথে রাতের অন্ধকারে মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে।


