‘যার যার সম্পদ তার তার’ শর্তে অনেকটা গোপনেই দীর্ঘদিনের সঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেজকে বিয়ে করেছেন কিংবদন্তি ফুটবলার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের উপস্থিতিতে গত ১১ আগস্ট বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন পর্তুগালের এই তারকা ফুটবলার।
তবে বিশ্বের অন্যতম আলোচিত এই তারকার জীবনের নতুন অধ্যায় শুরুর মধ্যেই বিয়ের ‘আর্থিক শর্ত’ বিষয়ে প্রকাশ্যে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য। বিয়ের নিবন্ধনপত্র অনুযায়ী, রোনালদো ও জর্জিনা ‘সম্পত্তি পৃথকীকরণ’ ব্যবস্থার অধীনে বিয়ে করেছেন। অর্থাৎ বিচ্ছেদ হলেও তারা কেউ একে অপরের সম্পত্তির ভাগ পাবেন না।
মেক্সিকোর প্রকাশনা এন পারেহার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি নিবন্ধন নথি অনুযায়ী এই ব্যবস্থার ফলে রোনালদো ও জর্জিনা দুজনেই বিয়ের আগে এবং বিয়ের বন্ধনে থাকাকালে নিজেদের ব্যক্তিগত সম্পদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখবেন। তাদের সম্পদ একে অপরের সঙ্গে মিশবে না।
পর্তুগালের আইন অনুযায়ী, এ ধরনের চুক্তিতে বিয়ের আগে বা পরে যে সম্পদ, আয় ও বিনিয়োগ প্রত্যেকেই অর্জন করবেন, তার সম্পূর্ণ মালিকানা থাকবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছেই।
কাজেই ভবিষ্যতে কোনো কারণে তাদের বিচ্ছেদ হলেও সম্পদ ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভাগ’ হয়ে যাবে না।
এর ফলে রোনালদোর সব ধরনের ব্যবসায়িক চুক্তি, বিজ্ঞাপন, ব্যবসায়িক উদ্যোগ থেকে পাওয়া আয় এমনকি সৌদি আরবের ফুটবল ক্লাব আল-নাসরের বেতন এবং পেস্তানা সিআর সেভেন হোটেল ব্যবসা- বকিছুর মালিকানা তার কাছেই থাকবে।
পর্তুগালের ম্যাগাজিন টিভি গিয়ারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোনালদো-জর্জিনার বিয়ের নিবন্ধনে এমন কিছু ধারা রয়েছে, যা ভবিষ্যতে বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম ধারায় বলা হয়েছে, বিচ্ছেদ হলে জর্জিনা রোনালদোর কাছ থেকে প্রতি মাসে প্রায় এক লাখ ইউরো ভাতা পাবেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় এক কোটি ১০ লাখ টাকা।
আরেকটি ধারায় বলা হয়েছে, মাদ্রিদের লা ফিনকা এলাকার বিলাসবহুল বাড়িটির পূর্ণ মালিকানা জর্জিনার কাছে থাকবে। বর্তমানে বাড়িটির মূল্য ৫৬ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিয়ের অনুষ্ঠানে তাদের পাঁচ সন্তান এবং কয়েকজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। আনুষ্ঠানিক সাক্ষী হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন রোনালদোর ঘনিষ্ঠ বন্ধু মিগেল পায়সাও এবং জর্জিনার বোন ইভানা রদ্রিগেজ।
বিশ্বের অন্যতম পরিচিত ব্যক্তিত্ব রোনালদোর বিয়েতে কোনো তারকা অতিথি ছিলেন না। পর্তুগাল জাতীয় দলের সতীর্থ কিংবা আল-নাসরের ক্লাব সতীর্থদের কাউকেই সেই অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি।
বিয়ের পর রোনালদো ও জর্জিনা কেউই নিজেদের পারিবারিক পদবি পরিবর্তন করেননি।
এর আগে গুঞ্জন ছড়িয়েছিল, তারা মাদেইরার ফুনশাল ক্যাথেড্রালে বড় আয়োজনের মাধ্যমে বিয়ের অনুষ্ঠান করতে পারেন। সেই খবরের পর সেখানে শত শত ভক্ত ও গণমাধ্যমকর্মী জড়ো হয়েছিলেন।
তবে বিয়ের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বা এর সম্ভাব্য স্থান নিয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি। বিয়ের মতো এই আয়োজনও গোপন রাখছেন রোনালদো ও জর্জিনা।


