রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয়—কে হচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি। সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। এ নিয়ে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির অভ্যন্তরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা জোরালো হয়েছে।
দলীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এবং আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কারণে তিনি শুধু বিএনপি নেতাকর্মীদের কাছে নয়, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কাছেও গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।
এ ছাড়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং নজরুল ইসলাম খানের নামও আলোচনায় রয়েছে। রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও দীর্ঘদিনের দলীয় অবদানের কারণে তাদেরও সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
দলীয় সূত্রের দাবি, প্রশাসনের সাবেক কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার নামও অনানুষ্ঠানিক আলোচনায় এসেছে। তবে দলের অধিকাংশ নেতাকর্মীর মতামত হলো, রাষ্ট্রপতির মতো সাংবিধানিক গুরুত্বপূর্ণ পদে বিএনপির স্থায়ী কমিটির কোনো সিনিয়র নেতাকে মনোনয়ন দেওয়া হলে তা দলীয় কর্মীদের মধ্যেও ইতিবাচক বার্তা দেবে।
দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা মনে করেন, গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামে যেসব নেতা সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং নানা ধরনের রাজনৈতিক চাপ, মামলা ও কারাবরণ করেছেন, তাদের অবদানের মূল্যায়ন করবেন পার্টির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিশেষ করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম আলোচনায় থাকার পেছনে তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে বলে দলীয় সূত্রগুলোর দাবি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সরকারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে তিনি একাধিকবার গ্রেপ্তার হন, বিভিন্ন মামলার মুখোমুখি হন এবং কারাবরণ করেন। অসুস্থতা সত্ত্বেও তিনি আন্দোলনের নেতৃত্বে সক্রিয় ছিলেন বলে বিএনপির নেতাকর্মীরা উল্লেখ করছেন।
তবে রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। দলীয় সূত্র বলছে, সময় হলে দলের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে।
এদিকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংবিধান অনুযায়ী আগামী সর্বোচ্চ ৯০ দিন রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সেক্ষেত্রে যদি বিএনপি হাফিজ উদ্দিন আহমদকে মনোয়ন দেয়, তাহলে তাকে আর বঙ্গভবন থেকে ফেরত আসতে হবে না।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আবদুল হামিদ এভাবে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে নতুন রাষ্ট্রপতির বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাননি। স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘আলোচনায় অনেকের নাম আছে। তবে নতুন রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তার কিছুই আমি জানি না।’
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে, তাই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা এখনই বলা কঠিন।


