টানা ১৩ রাত ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, নিহত ৪

টানা ১৩ রাত ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, নিহত ৪
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা। ছবি: ইউএস সেন্টকমের ভিডিও থেকে নেওয়া
Advertisement
Advertisement

ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় টানা ১৩তম রাতের মতো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার রাতভর চালানো এসব হামলায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় আহভাজ শহরের কাছে অন্তত চারজন নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন বলে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।

একই সময়ে দেশটির বিভিন্ন শহরে বিস্ফোরণ ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সর্বশেষ অভিযানে ইরানের সামরিক কমান্ড সেন্টার, ড্রোন সংরক্ষণাগার, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্র এবং সামুদ্রিক সক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে। সেন্টকমের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় ও আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, খুজেস্তান প্রদেশের আন্দিমেশক ও ওমিদিয়েহ শহরের আশপাশে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের বরাত দিয়ে মেহের নিউজ জানিয়েছে, এসব হামলায় সেখানে কোনো হতাহত হয়নি।

তবে আধা-সরকারি তাসনিম নিউজ এজেন্সির খবরে বলা হয়েছে, আহভাজ শহরের কাছে পৃথক এক মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চারজন নিহত এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন।

আরও পড়ুন

এদিকে পশ্চিমাঞ্চলীয় খোররামাবাদে ড্রোন হামলায় আরও দুইজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফার্স নিউজ এজেন্সি।

হরমুজ প্রণালির তীরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বন্দর আব্বাসেও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে ফার্স নিউজ জানিয়েছে, শহরের তাপ্পেহ আল্লাহ-ও-আকবার আবাসিক এলাকায় হামলায় অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন।

এ ছাড়া খন্দাব, খোররামাবাদ, কোনারাক, জাস্ক এবং রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হওয়ার খবর প্রকাশ করেছে ইরানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

হরমুজ প্রণালির কাছে অবস্থিত কেশম দ্বীপেও একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। স্থানীয় সূত্রে আকাশে একটি উড়ন্ত বস্তু ভূপাতিত হওয়ারও দাবি করা হলেও তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং সামরিক কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা অব্যাহত রাখলে আরও কঠোর পাল্টা জবাব দেওয়া হবে। তাদের দাবি, প্রতিটি নতুন হামলার জবাবে আগের চেয়ে আরও প্রতিশোধমূলক অভিযান চালানো হবে, যার লক্ষ্য হবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা।

অন্যদিকে সেন্টকম জানিয়েছে, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ৫০ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad