ধসে পড়ল ড্রেন, লাপাত্তা ইউপি চেয়ারম্যান

ধসে পড়ল ড্রেন, লাপাত্তা ইউপি চেয়ারম্যান
Advertisement
Advertisement

রাজবাড়ী সদর উপজেলার তিনটি গ্রামের জলাবদ্ধতা দূর করতে ১০ লাখ টাকায় নির্মাণ করা একটি ড্রেন উদ্বোধনের কয়েক মাস না যেতেই ধসে পড়েছে। ড্রেন নির্মাণের নামে অর্থ লোপাটের এমন ঘটনার পর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে লাপাত্তা হয়ে গেছেন চেয়ারম্যান।

রামকান্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের কাউরিয়া, বসুপাড়া ও ধেরওয়িল গ্রামের জলাবদ্ধতা দূর করতে এই ড্রেন নির্মাণ করা হয়েছিল। স্থানীয়দের অভিযোগ, অতি নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে দায়সারা কিছু কাজ করে ড্রেন নির্মাণের প্রায় সব টাকাই লুটে নিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও তার চক্র।

সম্প্রতি কাউরিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ড্রেনের পুরো অংশই এখন মাটির সঙ্গে মিশে আছে। ভাঙা ইটের টুকরো আর কাদামাটির স্তূপ ছাড়া সেখানে আর কিছুই বাকি নেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রামকান্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের উন্নয়ন সহায়তা তহবিলের ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের বিবিজি বিশেষ কিস্তির আওতায় এই ড্রেন নির্মাণ করা হয়। ড্রেনটি নির্মাণের মূল পথগুলো ছিল—আদলার বিল থেকে বদরউদ্দিনের জমি, আজাহারের জমি থেকে সফিকের জমি এবং করিম মোল্লার জমি থেকে কাউরিয়া বিল পর্যন্ত।

এই দীর্ঘ ড্রেন নির্মাণে মোট বাজেট ধরা হয়েছিল ১০ লাখ টাকা। ইউনিয়ন পরিষদের ঠিক করে দেওয়া একটি বিশেষ কমিটির মাধ্যমে ড্রেন নির্মাণের দায়িত্বে ছিলেন রামকান্তপুর ইউপি চেয়ারম্যান রাজিব মোল্লা। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, নামমাত্র ইট-বালু দিয়ে চরম অবহেলায় ড্রেনটি খাড়া করা হয়েছিল, যা বর্ষার সামান্য পানির চাপও সহ্য করতে পারেনি।

কাউরিয়া, বসুপাড়া ও ধেরওয়িল গ্রামের মানুষের আয়ের প্রধান উৎস চাষাবাদ। বর্ষা এলেই কাউরিয়া বিলসহ আশেপাশের ফসলি জমিতে অতিরিক্ত পানি জমে স্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এই বিপদ থেকে কৃষকদের বাঁচাতেই মূলত ড্রেনটি তৈরির দাবি উঠে। কিন্তু দুর্নীতির কারণে ড্রেনটি পুরোপুরি ধসে যাওয়ায় এখন আসন্ন বর্ষায় শত শত একর ফসলি জমি আবারও তলিয়ে যাওয়ার আতঙ্কে দিন কাটছে চাষিদের।

আরও পড়ুন

কাউরিয়া গ্রামের কৃষক মো. রহমত আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাদের আয়ের মূল উৎস চাষবাস। বর্ষা এলেই বিলে পানি জমে ফসল নষ্ট হয়ে যায়। ড্রেনটা হওয়ায় তিনি ভেবেছিলেন এবার হয়তো বাঁচা যাবে। কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান যে ড্রেন বানিয়েছেন সেটি সামান্য পানির চাপও সহ্য করতে না পেরে মাটির সাথে মিশে গেছে।

ধেরওয়িল গ্রামের গৃহিণী আছিয়া বেগম বলেন, এখন ভরা বর্ষায় তাদের ঘরবাড়ি আর ফসলি জমি সব পানিতে তলিয়ে যাবে। ড্রেন নির্মাণের নামে অর্থ লোপাটকারীদের বিচার চান তিনি।

বসুপাড়া গ্রামের সমাজকর্মী তারেক রহমান বলেন, ১০ লাখ টাকার কাজে ২ লাখ টাকার জিনিসপত্রও ব্যবহার করা হয়নি। রড বা সিমেন্টের কোনো বালাই ছিল না। পুরো টাকাটাই চেয়ারম্যান আর তার লোকজন পকেটে ভরেছে। এর খেসারত এখন সাধারণ মানুষকে দিতে হচ্ছে।

ড্রেন নির্মাণে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান রাজিব মোল্লার বক্তব্য জানতে তার কার্যালয়ে যান সংবাদকর্মীরা। তবে সেখানে গিয়ে দেখা যায় চেয়ারম্যান রাজিব মোল্লার কক্ষে তালা ঝুলছে। ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও চেয়ারম্যান কোথায় আছেন তা জানাতে পারেননি। পরে চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

এলাকাবাসীর দাবি, দুর্নীতির খবর ফাঁস হয়ে যাওয়াতেই চেয়ারম্যান এখন সাধারণ মানুষের সামনে আসা এড়িয়ে চলছেন।

এ বিষয়ে রাজবাড়ী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নিরুপমা রায় জানান, ড্রেন নির্মাণে কোনো অনিয়ম বা অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে ইউপি চেয়ারম্যানসহ এর সাথে জড়িত সবার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad