খাদের কিনারা থেকে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে এখন বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনা। মিশরের বিপক্ষে একপর্যায়ে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর মাত্র ১৩ মিনিটের টর্নেডো আক্রমণে তিন গোল দিয়ে নির্ধারিত সময়েই ম্যাচ জিতেছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। ৩-২ ব্যবধানের এই ঘাম ঝরানো জয়ের পর দলের জয়ের নায়ক ও ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ জানিয়েছেন–শিরোপা ধরে রাখতে তারা এভাবেই লড়াই চালিয়ে যাবেন।
ম্যাচ শেষে সম্প্রচারকারী চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে এনজো বলেন, ‘কাতার বিশ্বকাপের প্রায় ৪ বছর পর এই ধরনের মুহূর্তগুলো উপভোগ করতে পারা… সত্যি বলতে আমি ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ। আমি নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি এবং সব গৌরব তারই। পাশাপাশি আমার সতীর্থদের কথাও আলাদাভাবে বলতে চাই–আমাদের একটি অসাধারণ দল আছে। এমন একটি দল যা কখনো হার মানে না; যত কঠিন পরিস্থিতি বা প্রতিকূলতাই আসুক না কেন, আমরা সবসময় একসঙ্গে থাকি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘তাই আমার সতীর্থ, কোচিং স্টাফ এবং এখানে যারা আমাদের সমর্থন জোগাচ্ছেন, সবাইকে ধন্যবাদ। আর্জেন্টিনার মাটিতে থাকা সব আর্জেন্টাইনকেও ধন্যবাদ। আর হ্যাঁ, আমরা আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলাম।’
দল যখন ২-২ গোলে সমতায়, ঠিক তখন যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে (৯২ মিনিট) আর্জেন্টিনার হয়ে জয়সূচক মহাগুরুত্বপূর্ণ গোলটি করেন এনজো। বাকি সময়ে সেই গোলের লিড ধরে রেখেই কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আলবিসেলেস্তেরা।
বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন গোল করা প্রসঙ্গে এনজো বলেন, ‘বিশ্বকাপে এমন সুন্দর গোল করার ব্যাপারটা… আসলে মাঝেমধ্যে সতীর্থদের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়। সত্যি বলতে, আমার সতীর্থরা অসাধারণ, তাদের খেলার মান দুর্দান্ত। আর ডি-বক্সের কাছাকাছি যখনই ফাঁকা জায়গা বা সুযোগ তৈরি হয়, সেটার সঠিক ব্যবহার করতে হয়। আজ মনে হয় একদম শেষ মিনিটে আমি সেই সুযোগটা পেয়েছিলাম।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও শিরোপা ধরে রাখার ক্ষুধা নিয়ে এনজো বলেন, ‘হ্যাঁ, কাতার বিশ্বকাপের পর ৪ বছর কেটে গেছে। আমরা এখানে এসেছি আরও একটি বিশ্বকাপ উপভোগ করতে, আমাদের দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে এবং আবারও এটি জিততে। কারণ দিনশেষে ফুটবল পেছনের সবকিছু ভুলে যায়। তাই আমরা নতুন লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছি। আমরা এভাবেই লড়ে যাবো।’


