শুধু আশ্বাস নয়, দ্রুত তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু করা না হলে রংপুর বিভাগ থেকে দেশের অন্যস্থানে খাদ্যশস্য সরবরাহ বন্ধ করাসহ ঢাকা ঘেরাওয়ের হুশিঁয়ারি দিয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটি।
শনিবার একযোগে তিস্তা অববাহিকার তিন জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে মানববন্ধন থেকে এই ঘোষণা দেন জামায়াত এমপি এবং ১১-দলীয় জোটের নেতারা। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি সংবলিত বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন প্রদর্শন করা হয়।
রংপুর মহানগরীতে শাপলা চত্বর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক মোড় পর্যন্ত এলাকায় মানববন্ধন হয়। এতে বক্তব্য রাখেন গাইবান্ধা-১ আসনের এমপি মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-২ আসনের এমপি আব্দুল করিম সরকার, রংপুর মহানগর আমির ও জামায়াত মনোনীত মেয়র প্রার্থী এটিএম আজম খান, এনসিপি জেলা আহ্বায়ক আল মামুন প্রমুখ।
অন্যদিকে গঙ্গাচড়া বুড়িরহাট থেকে মহিপুর তিস্তা সড়ক সেতু পর্যন্ত মানববন্ধনে অংশ নেন নদী অববাহিকার শতশত মানুষ। এখানে বক্তব্য রাখেন সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব রংপুর-১ আসনের এমপি রায়হান সিরাজী, লক্ষিটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল হাদী, খেলাফত মজলিশের আমির মমিনুল ইসলাম প্রমুখ।
এদিকে কাউনিয়া বাসস্ট্যান্ড থেকে তিস্তা সেতু পর্যন্তও একই সমেয় মানববন্ধন হয়। এসময় সেখানে শত শত মানুষ অংশ নেন। এখানে বক্তব্য রাখেন রংপুর-৫ আসনের এমপি গোলাম রব্বানী, রংপুর-৬ আসনের এমপি নুরুল আমিন প্রমুখ।
রংপুরের মানববন্ধনে এনসিপি জেলা আহ্বায়ক আল মামুন বলেন, ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন না হলে রংপুর বিভাগের প্রতিটি উৎপাদিত পণ্য আমরা ঢাকায় যাওয়া বন্ধ করে দেব। বাজেটে তিস্তার জন্য প্রথম বছরে তিন হাজার কোটি টাকা তেমন বড় বিষয় নয়। অথচ আমরা এই তেরো হাজার কোটি টাকার জন্য বিভিন্ন দেশের কাছে যাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন সফরে যাচ্ছেন। আমরা আশা করব, সফর থেকে ফিরে এসে তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়ন করে তিনি আমাদের একটি সুসংবাদ দেবেন।
মহানগর জামায়াত আমির ও সংগ্রাম কমিটির উপদেষ্টা এটিএম আজম খান বলেন, ‘আমরা দ্রুত এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন দেখতে চাই। অল্প দিনের মধ্যে যদি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন না করা হয়, তাহলে ঢাকা ঘেরাও করে সারা দেশকে অচল করে দেওয়া হবে।’
গাইবান্ধা-১ আসনের এমপি মাজেদুর রহমান বলেন, ‘রংপুরের আড়াই কোটি মানুষের পক্ষ থেকে বলতে চাই, তিস্তা মহাপ্রকল্প শিগগির বাস্তবায়ন করতে হবে। ’
গঙ্গাচড়ার মানববন্ধনে সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব ও স্থানীয় এমপি রায়হান সিরাজী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী লন্ডনে থাকা অবস্থায় তিস্তা পারের অবস্থানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ঘোষণা দিয়েছিলেন তার দল ক্ষমতায় এলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা অগ্রাধিকার পাবে। কিন্তু কেন পদ্মা ব্যারেজ অগ্রাধিকার পেল আমরা জানি না। প্রয়োজনে আপনারা বন্ড ছাড়ুন। আমরা কেনা শুরু করি। তবুও এই বাজেটেই তিস্তার জন্য বরাদ্দ দিন।’
লালমনিরহাটের কালিগঞ্জের ভোটমারির শৈলমারি চর এলাকায় মানববন্ধনে অংশ নেন অববাহিকায় ক্ষতিগ্রস্ত শত শত মানুষ ও ১১-দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা। সেখানে বক্তব্য রাখেন কুড়িগ্রাম-৩ আসনের এমপি মাহবুবুল আলম সালেহী, কুড়িগ্রাম-১ আসনের এমপি আনোয়ারুল ইসলাম, জেলা জামায়াত আমির অ্যাডভোকেট আবু তাহের।
মাহবুব আলম সালেহী বলেন, ‘সরকার তিস্তা মহাপরিকল্পনা করা হবে বলছে, কিন্তু বাজেটে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। আমরা মনে করি এর অবসান হওয়া দরকার। বিশেষ করে ২৪ এর যে বিপ্লব হয়েছিল, সেটা ছিল বৈষম্যহীন সমাজ বিনির্মাণের জন্য। তাই তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ব্যাপারে এই বাজেটে যেন কোনো বৈষম্য না থাকে। এই বাজেটেই সরকার টাকা বরাদ্দের ব্যবস্থা করুক এবং কাজ শুরু করুক। তাতে সরকারকেই মানুষ মনে রাখবে।’
এদিকে নীলফামারীর জলঢাকার কাকড়া থেকে তিস্তা ব্যারেজ পর্যন্ত মানববন্ধনে অংশ নেন কয়েক হাজার মানুষ। এসময় বক্তব্য রাখেন নীলফামারী-১ আসনের এমপি মাওলানা আব্দুস সাত্তার, ২ আসনের এমপি আল ফারুক আব্দুল লতিফ, ৩ আসনের এমপি ওবায়দুল্লাহ সালাফি, ৪ আসনের এমপি আব্দুল মুনতাকিম প্রমুখ।
মাওলানা আব্দুস সাত্তার এমপি বলেন, ‘আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। আমরা আর কোনো আশ্বাসের বানি শুনতে চাই না। আমাদের জীবন-জীবিকা কঠিন হুমকির মুখে। এই বাজেটেই যদি সংশোধনী আকারে তিস্তা প্রকল্পের বরাদ্দ দিয়ে কাজ শুরু করা না হয়, তাহলে সব কিছু অচল করে দেওয়া ছাড়া এই অববাহিকার মানুষের আর করার কিছুই থাকবে না।’
উল্লেখ্য, শুক্রবার দিনভর টেকনিক্যাল টিমসহ তিস্তা অববাহিকা পরিদর্শন করেন ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। ত্রাণমন্ত্রী মহাপরিকল্পনা একনেকে পাশের মাধ্যমে কাজ শুরু করার কথা জানান।


