ঝিনাইদহে সামাজিক বিরোধে ২ পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২০

ঝিনাইদহে সামাজিক বিরোধে ২ পক্ষের সংঘর্ষে আহত ২০
Advertisement
Advertisement

ঝিনাইদহের হরিণাকুণ্ডুতে সামাজিক বিরোধের জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার ভোরে উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন সাবেক ইউপি সদস্য মশিউর রহমান মশাল (৫০), মোজাফ্ফর হোসেন সেন্টু (৪৫), কবির হোসেন (৪০), মিজানুর রহমান (৪৫), রুবেল (৩২), গোলাপ্ফার (৪২), আব্দুর রাজ্জাক (৪৮), মোতালেব হোসেন (৪০), তোতা (৩৫), বাচ্চু মিয়া (৩২), বিভান (২২) ও সামসুদ্দিন (৪৫)।

গুরুতর আহত মশিউর রহমান, মোজাফ্ফর হোসেন ও কবির হোসেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মিজানুর রহমানকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও ছোটন রহমান ছোটকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিরা হরিণাকুণ্ডু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালিয়া গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে দু’পক্ষের সামাজিক বিরোধ চলছে। একপক্ষের নেতৃত্বে আছেন ফলসী ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বজলুর রহমান। অপরপক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি করম আলী ও সাবেক ইউপি সদস্য মশিউর রহমান মশাল। মে মাসেও এই দু’পক্ষের মধ্যে দুই দফায় সংঘর্ষ হয়।

আরও পড়ুন

স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিন আগে চেয়ারম্যানের ভাইয়ের পুকুর থেকে মাছ লুটের ঘটনায় একটি মামলা হয়। এর জেরে শুক্রবার সকালে চেয়ারম্যানের ভাই ছোটন রহমান ছোটকে কুপিয়ে আহত করে প্রতিপক্ষ। এরই প্রতিক্রিয়ায় শনিবার ভোর ৬টার দিকে চেয়ারম্যানের লোকজন প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালালে উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়।

ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি করম আলী অভিযোগ করেন, ‘সকালে চেয়ারম্যানের পক্ষের লোকজন আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা করে। তারা সাবেক ইউপি সদস্য মশিউর রহমানসহ ১৫ থেকে ১৬ জনকে কুপিয়ে আহত করেছে। ককটেল ফাটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে।’

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাইজাল হোসেন বলেন, ‘এটি মূলত সামাজিক বিরোধ। ৫ আগস্টের পর কিছু লোক চেয়ারম্যানের গ্রুপ থেকে বের হয়ে যাওয়ায় তিনি প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠেছেন। চেয়ারম্যানের ভাই এক নারীকে লাঞ্ছিত করায় ওই নারীর পরিবার তার ওপর হামলা করেছিল। কিন্তু চেয়ারম্যান ভোরে ঘুমন্ত প্রতিপক্ষের ওপর হামলা চালিয়েছেন।’

চেয়ারম্যান বজলুর রহমান ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার লোকজনের ওপর একের পর এক আক্রমণ হচ্ছে। আমার ভাইকেও কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। আমাদের কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর।’

হরিণাকুণ্ডু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অসিত কুমার বলেন, ‘পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ককটেল ফোটানোর খবরটি সঠিক নয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা ও মামলার প্রক্রিয়া চলছে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad