রাজশাহীর নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসির (নেসকো) ২০১৮ ও ২০১৯ সালের বিভিন্ন নিয়োগ পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রে অসঙ্গতি ও ঘাটতি মিলেছে। বর্তমান উপমহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ উন্নয়ন) মো. রহমত উল্লাহ-আল-ফারুকের নিয়োগসংক্রান্ত বেশ কয়েকটি মূল নথিই অনুপস্থিত।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নেসকোর সাবেক নির্বাহী পরিচালক (অর্থ) সৈয়দ গোলাম আহাম্মদ অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে নির্বাহী পরিচালক (প্রশাসন) পদে থাকাকালে এসব নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ২০১৯ সালে ব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ ও প্রশাসন) পদে যোগ দেন মো. রহমত উল্লাহ-আল-ফারুক।
সৈয়দ গোলাম আহাম্মদের চুক্তির মেয়াদ শেষে এককালীন আর্থিক সুবিধা ও পেনশনের আবেদনের প্রেক্ষিতে তার দায়িত্বকালীনের নিয়োগ নথিপত্র যাচাইয়ের উদ্যোগ নেয় নেসকো পরিচালনা পর্ষদ। গত ২ মার্চ নেসকোর লিগ্যাল অ্যান্ড কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স দপ্তর থেকে নিয়োগ নথির সংরক্ষণ ও অবস্থান জানতে চেয়ে পত্র পাঠানো হয়। ২৫ মার্চ রহমত উল্লাহ-আল-ফারুক স্বাক্ষরিত পত্রে জানানো হয়, কমিটির চাহিদা অনুযায়ী তথ্য সরবরাহ করা হয়েছে।
কমিটির কাছে পাঠানো তথ্যছকে দেখা যায়, অন্য কর্মকর্তাদের তুলনায় রহমত উল্লাহ-আল-ফারুকের নিয়োগসংক্রান্ত বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মূল নথির ঘাটতি রয়েছে। অনুপস্থিত নথির মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) প্রস্তুত করা লিখিত পরীক্ষার ফলাফল, মৌখিক পরীক্ষার নম্বরপত্র, টেবুলেশন শিট, মৌখিক পরীক্ষার হাজিরা শিট ও বোর্ড সভার কার্যবিবরণী। নিয়োগের বৈধতা যাচাইয়ে এসব নথি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নেসকো সূত্র জানায়, প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে গঠিত কমিটি পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
এ বিষয়ে রহমত উল্লাহ-আল-ফারুক মন্তব্য করতে রাজি হননি। নথির অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদনের পরামর্শ দেন।
সাবেক নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ গোলাম আহাম্মদ বলেন, ‘নিয়োগসংক্রান্ত মূল নথি না থাকার কারণ নেই। এসব নথি সংরক্ষিত থাকার কথা। যাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তারা ইতোমধ্যে পদোন্নতিও পেয়েছেন। মূল নথি না থাকলে পদোন্নতি কীভাবে হলো, সেটিও প্রশ্নের বিষয়।’
নেসকোর মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ উন্নয়ন) রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নিয়োগসংক্রান্ত নথিপত্র কোম্পানির সচিবালয়ে পাঠানো হতো। বুয়েট নিয়োগ পরীক্ষা নিয়েছিল। ফলে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে সন্দেহের কারণ নেই। বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি হবে।’
নথির অনুপস্থিতির বিষয়টি নিয়ে নেসকোর অভ্যন্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। গঠিত তদন্ত কমিটি ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে নজর রাখছেন সংশ্লিষ্টরা।


