গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও সহিংসতা থামেনি। চুক্তি হওয়ার পর থেকে বুধবার পর্যন্ত গাজাজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় এক হাজার পাঁচজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
অবরুদ্ধ এই উপত্যকার ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থাসহ সার্বিক মানবিক পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এই তথ্য জানিয়েছে।
যুক্তরাজ্যের দাতব্য প্রতিষ্ঠান মেডিকেল এইড ফর প্যালেস্টানিয়ানসের গাজাবিষয়ক পরিচালক ফিকর শালতুত বলেন, ‘গাজা আরও একটি মর্মান্তিক মাইলফলকে পৌঁছানোয় আমরা শোকাহত। সেখানকার হাজারো মানুষকে বলা হয়েছিল, সবচেয়ে খারাপ সময়টা কেটে গেছে। কিন্তু তারা এখনো তাদের প্রিয়জনদের দাফন করছেন।’
যুদ্ধবিরতি গাজায় বড় পরিসরে লড়াই হয়তো থামিয়েছে, কিন্তু এর পরবর্তী স্তরে যেতে দুই পক্ষ এখনও চূড়ান্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। অথচ এই পর্যায়ে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের কথা ছিল, যা এখনও অধরা রয়ে গেছে।
অক্টোবরের পর থেকে বিভিন্ন সময় গাজা উপত্যকায় নিজেদের সামরিক উপস্থিতি জানান দিয়ে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। বর্তমানে গাজা উপত্যকার প্রায় ৬৪ শতাংশ ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।
গত শুক্রবার পূর্ব গাজা সিটির কয়েক ডজন পরিবারকে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করা হয়। জাতিসংঘের অফিস ফর দ্য কো-অর্ডিনেশন অব হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী হলুদ সিমেন্ট ব্লক বসিয়ে পশ্চিম দিকে ‘ইয়েলো লাইন’ আরও বিস্তৃত করার পর বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনির সংখ্যা আরও বেড়েছে।
চলমান যুদ্ধবিরতি গাজায় ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থার পুনর্গঠন শুরু করার একটি সুযোগ এনে দেবে বলে আশা করা হয়েছিল। তবে ওসিএইচএর তথ্য অনুযায়ী, গাজা উপত্যকায় ৩৭টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ২০টি আংশিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। উপত্যকাটিতে বর্তমানে একটি হাসপাতালও পুরোপুরি কার্যক্রম পরিচালনা করার মতো অবস্থায় নেই।
এ মাসের শুরুর দিকে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হুসাম বদরান আলজাজিরাকে বলেছিলেন, হামাস এখনই অস্ত্র সমর্পণ করবে না। অন্য ফিলিস্তিনি দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পরই অস্ত্রভান্ডারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হবে।
ফিকর শালতুত অভিযোগ করেন, বিশ্বনেতারা ভেবেছিলেন একটি কাগজের চুক্তি দিয়ে দায়বদ্ধতা, অবরোধ প্রত্যাহার কিংবা ওষুধ পৌঁছানোর প্রয়োজনীয়তা পূরণ করা সম্ভব। তিনি বলেন, এখনও গাজায় প্রবেশ কঠোরভাবে সীমিত এবং সহায়তা ক্ষুধার্ত মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে, আর আন্তর্জাতিক নীরবতা অব্যাহত রয়েছে।
গাজার সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ২৩ অক্টোবর গাজায় সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করে ইসরায়েল। এর পর থেকে উপত্যকাটিতে ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। গাজার বেশির ভাগ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে এবং সেখানকার প্রায় ১৯ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।


