খুলনায় গৃহকর্মী নির্যাতন: পুলিশ স্বামী কারাগারে, অসুস্থ হওয়ায় স্ত্রী প্রিজন সেলে

খুলনায় গৃহকর্মী নির্যাতন: পুলিশ স্বামী কারাগারে, অসুস্থ হওয়ায় স্ত্রী প্রিজন সেলে
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকায় গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার পুলিশ দম্পতির মধ্যে এএসআই পপি মিত্র অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার ডান হাত অবশ হয়ে পড়ায় আদালতের অনুমতি নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে ভর্তি করা হয়েছে। অপর আসামি তার স্বামী এএসআই সঞ্জয় মিত্রকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. ফারুক ইকবালের আদালতে এই দম্পতিকে হাজির করা হলে বিচারক তাদের দুজনকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে ভুক্তভোগী গৃহকর্মীর মা বৃহস্পতিবার সকালে সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। এরপরই আগে থেকে হেফাজতে থাকা একই থানায় কর্মরত পুলিশ দম্পতি এএসআই সঞ্জয় মিত্র ও এএসআই পপি মিত্রকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সোনাডাঙ্গা থানার এসআই সাইফুর রহমান বলেন, আদালতের নির্দেশে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে, পপি মিত্র অসুস্থ বোধ করায় তাকে প্রিজনসেলে রাখা হয়েছে। তার ডান হাতে সমস্যা হয়েছে। তিনি হাত নাড়াতে পারছেন না, এ বিষয়ে ডাক্তার ভালো বলতে পারবে।

এর আগে বুধবার দুপুরে তরকারি পুড়ে যাওয়ায় গৃহকর্মী মারধর করে সোনাডাঙ্গা থানার এএসআই সঞ্জয় মিত্রের স্ত্রী পপি মিত্র। তার শরীরে গরম কড়াইয়ের ছেকাও দেন তিনি। এরপর কান ধরে উঠবস করান।

আরও পড়ুন

সোনাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মো: রফিকুল ইসলাম জানান, গত ৫ বছর ধরে ওই গৃহকর্মী সঞ্জয় মিত্রের বাড়িতে কাজ করছিলেন।

গত বুধবার বিষয়টি জানাজানি হলে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার আনা হয়। বিকালে পুলিশ কর্মকর্তাদের থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। রাতে গৃহকর্মীর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিক রবিউল গাজী উজ্জ্বল জানান, বুধবার দুপুরে খুলনার সোনাডাঙ্গা আবাসিকের সোলার পার্কে একটি সেমিনারে অংশ নেওয়ার সময় তিনি পাশের একটি ভবনের ভেতরে একজনকে নির্যাতিত হতে দেখে দূর থেকে ঘটনাটির ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন।

পরে তিনি জানতে পারেন, রান্না করার সময় একটি সবজি পুড়ে যাওয়ার পর গৃহকর্ত্রী এএসআই পপি মিত্র গরম কড়াই দিয়ে গৃহকর্মীর শরীরে ছ্যাঁকা দেন। এতে ভুক্তভোগী দগ্ধ হন। এ সময় প্রত্যক্ষদর্শীরা ট্রিপল নাইনে ফোন করে পুলিশকে খবর দিলে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ওই গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করেন। তিনি সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা খুলনার সমন্বয়কারী আইনজীবী মোমিনুল ইসলাম বলেন, গৃহকর্মী নির্যাতনকারী দু’জনই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। তারা যে এ ধরনের অপরাধ করবে তা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না। তাদের কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত।

খুলনা মহিলা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অজন্তা দাস এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেন,  ‘আসামিরা দুজনেই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য। কোনো অবস্থাতেই তাদের দ্বারা এমন অগ্রহণযোগ্য অপরাধ মেনে নেওয়া যায় না।’ এ অপরাধের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad