ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভনে লিবিয়ায় পাচার, চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার

ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভনে লিবিয়ায় পাচার, চক্রের ২ সদস্য গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার আসামি। ছবি: সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবকের কাছ থেকে প্রায় ১২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা নেওয়ার পর তাকে মিশর হয়ে লিবিয়ায় পাচার এবং সেখানে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে মানবপাচার চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন—মো. আতিকুর রহমান টমাস (৩২) ও মো. বদিউল আলম ভূঁইয়া ওরফে বেলাল (৫৪)।

মঙ্গলবার সিআইডি থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার বিকাল ৫টার দিকে ঢাকার বিমানবন্দর থানাধীন আশকোনা হাজি ক্যাম্পের সিভিল এভিয়েশন ওয়েলফেয়ার মার্কেটের সামনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডি জানায়, নোয়াখালীর সেনবাগের বাসিন্দা ভুক্তভোগী যুবক প্রায় তিন বছর সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। দেশে ফেরার পথে বিমানে এক সহযাত্রীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ওই সহযাত্রীর মাধ্যমে তিনি মানবপাচার চক্রের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। চক্রের সদস্যরা তাকে লিবিয়া হয়ে নিরাপদে ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে চুক্তি করে।

চুক্তি অনুযায়ী, ৫ এপ্রিল ভুক্তভোগী ঢাকার আশকোনার একটি অফিসে পাসপোর্ট জমা দিয়ে অগ্রিম এক লাখ ৩০ হাজার টাকা দেন। ৭ এপ্রিল তাকে প্রথমে ভারতের নয়াদিল্লি এবং সেখান থেকে শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে পাঠানো হয়। সেখানে প্রায় ১৬ দিন অবস্থানের পর বিভিন্ন অজুহাতে তার পরিবারের কাছ থেকে ধাপে ধাপে আরও টাকা নেওয়া হয়। পরে তাকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ হয়ে মিশরের কায়রোতে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন

অভিযোগ রয়েছে, কায়রো বিমানবন্দর থেকে চক্রের এক সদস্য তাকে একটি বাসায় নিয়ে প্রায় পাঁচ দিন আটকে রাখে। পরে পূর্বের চুক্তির কথা বলে তার কাছে আরও ছয় হাজার মার্কিন ডলার দাবি করা হয়। নগদ টাকা, বিকাশ ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের কাছ থেকে মোট প্রায় ১২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়।

এরপর তাকে মিশর থেকে গাড়িতে দুর্গম মরুভূমি ও পাহাড়ি সীমান্ত অতিক্রম করে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চক্রের সহযোগী হিসেবে পরিচিত এক ব্যক্তি তাকে একটি কথিত ‘গেম রুমে’ আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরবর্তীতে লিবিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে অন্যদের সঙ্গে ওই যুবককেও আটক করে কারাগারে পাঠায়। তাকে মুক্ত করার কথা বলে তখনও পরিবারের কাছে আরও ছয় লাখ টাকা দাবি করা হয়।

সিআইডি জানায়, পরবর্তীতে লিবিয়া পুলিশ তাকে আটক করে ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। দেশে ফিরে তিনি নিজেই বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন।

মামলাটির তদন্তভার গ্রহণের পর সিআইডি তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জড়িতদের অবস্থান শনাক্ত করে। পরে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারনামীয় আসামি আতিকুর রহমান টমাস ও বদিউল আলম ভূঁইয়া ওরফে বেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad