মুন্সিগঞ্জে সাংবাদিকের বাবাকে আটক রেখে দুই লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ যুবদল নেতা রাজীব হোসেন অপু ও তার সহযোগী স্বপনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার দিবাগত রাতে সদর উপজেলার পঞ্চসার ইউনিয়নের মুক্তারপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার রাজীব হোসেন অপু সদর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি।
অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ২০ বছর ধরে মুন্সিগঞ্জের কাটাখালী এলাকায় কাজী হিসেবে নিকাহ পড়ানো ও বিবাহ নিবন্ধনের কাজ করে আসছেন দৈনিক মানবজমিনের মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার নাহিদ হাসানের বাবা মো. হাবিবুর রহমান।
গত রোববার বেলা ২টার দিকে কাটাখালী এলাকায় নিজ বাসায় ছিলেন হাবিবুর রহমান। এ সময় রাজীব, স্বপনসহ কয়েকজন তিনটি মোটরসাইকেলে করে তার বাসায় গিয়ে বিয়ে পড়ানোর কথা বলে তাকে প্রথমে কাজী অফিসে এবং পরে জোরপূর্বক মুক্তারপুরে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়।
সেখানে একটি কক্ষে তাকে আটকে রেখে স্বপন দাবি করেন, তার স্ত্রী ইতি গত ১ অক্টোবর কাজী হাবিবুর রহমানের অফিসে বসে তাকে তালাক দিয়েছেন এবং হাবিবুর রহমান ওই তালাক নিবন্ধন করেছেন।
এরপর হাবিবুরকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তার কাজীর লাইসেন্স বাতিল এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।
নিজের প্রাণ রক্ষায় টাকা দিতে রাজি হন হাবিবুর রহমান। এরপর অগ্রণী ব্যাংকের মুন্সিগঞ্জ শাখা থেকে নিজের হিসাবের দুই লাখ টাকা উত্তোলন করে আসামিদের দেন। টাকা দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় সোমবার রাতে মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় রাজীব, স্বপন (৩৫), কাটাখালী এলাকার সোহেল (৪৫) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন হাবিবুর রহমান।
সাংবাদিক নাহিদ হাসান জানান, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। মামলা করলে পরবর্তীতে কী হতে পারে—এমন ভয়ও দেখানো হয়। তবে তিনি কারও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে কথা বলতে চাননি।
তার দাবি, তার বাবাকে অপহরণ করে ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার নিশ্চিত করা হোক।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তছলিম উদ্দিন গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে রাজীব ও স্বপনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দুপুরে থানা থেকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।


