চট্টগ্রামে পুলিশি হেনস্তা ও মারধরের ঘটনার পর জাতীয় ক্রিকেট দলের অফস্পিনার নাঈম হাসান ঢাকায় ফিরেছেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, মানসিক চাপ কমিয়ে দ্রুত স্বাভাবিক পরিবেশে ফেরাতে তাকে সতীর্থদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
রোববার বিকাল সাড়ে ৪টায় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি।
নাঈম হাসানের পরিবারের সদস্যরা বলেন, ঘটনার পর থেকে চট্টগ্রামে অবস্থানের সময় তাকে বারবার একই বিষয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হচ্ছিল। সামনে গুরুত্বপূর্ণ খেলা থাকায় এমন পরিস্থিতি তার মানসিক প্রস্তুতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা ছিল পরিবারের। এ কারণে বিসিবির সঙ্গে আলোচনা করে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
নাঈমের ভাই আবেশ খান বলেন, নাঈম এখন মোটামুটি ভালো আছেন। তাকে মূলত টিমমেটদের সঙ্গে রাখার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে, যাতে দ্রুত স্বাভাবিক হতে পারেন।
এ ছাড়া ঢাকায় যাওয়ার আগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) একজন চিকিৎসক নাঈমকে দেখে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন বলেও তিনি জানান।
গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফেরেন নাঈম হাসান। বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাসায় যাওয়ার পথে নগরের লালখান বাজার এলাকায় তাকে থামায় পুলিশ। পরে ‘স্বর্ণ চোরাচালানকারী’ সন্দেহে তার অটোরিকশায় তল্লাশি চালানো হয়।
নাঈমের ভাই আবেশের অভিযোগ, কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম এবং পুলিশের সোর্স রাসেল তাকে মারধর করেন। পরে তাকে থানায় নেওয়া হলে সেখানেও হেনস্তার শিকার হতে হয়। তবে পরে থানার কর্মকর্তারা তাকে চিনতে পেরে ছেড়ে দেন।
এ ঘটনায় চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারের সঙ্গে পুলিশের এমন আচরণকে ‘অপেশাদার’ উল্লেখ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
ঘটনার তদন্তে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের পদ্ধতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, খুলশী থানার সেকেন্ড অফিসার মনির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমানকে (ওসি) না জানিয়েই অভিযানের নির্দেশ দেন। গোয়েন্দা তথ্য যাচাই না করেই অভিযান পরিচালনা এবং পরে মারধরের ঘটনায় পুলিশের অভ্যন্তরেও আলোচনা চলছে।
এদিকে সংবাদমাধ্যমের একাংশের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে নাঈমের পরিবার। আবেশ খান বলেন, যারা সরাসরি নাঈমকে মেরেছে, তাদের বিষয়টি আড়ালে থেকে যাচ্ছে। অথচ অন্য বিষয় বেশি আলোচনায় আসছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে পরিবার।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) ও বিসিবির পক্ষ থেকে ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এরইমধ্যে খুলশী থানার ওসিকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এ ছাড়া দুইজনকে সাময়িক বহিষ্কার ও একজনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করেছে সিএমপি। তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন পেলে জড়িত সদস্যের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।


