যশোরে এক পুলিশ সদস্য ও তার পরিবারের ওপর হামলা, নারী সদস্যদের শ্লীলতাহানি, গাড়ি ভাঙচুর এবং টাকা ছিনতাইয়ের মামলায় অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা মাহাফুজুর রহমান হীরাকে গ্রেপ্তারের দুই ঘণ্টার মধ্যেই জামিন দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করে। পরে আসামিপক্ষের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন বিচারক।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ৫ জুন রাত ৮টার দিকে যশোর শহরের চিত্রা মোড়ে একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে একটি প্রাইভেট কারের সংঘর্ষ হয়। পরে দড়াটানা মোড়ে প্রাইভেট কারটির গতিরোধ করে হামলা চালানো হয়।
অভিযোগে বলা হয়, গাড়ির আরোহী এক পুলিশ সদস্য পরিচয় দেওয়ার পরও তাকে মারধর করা হয়। এ সময় তার স্ত্রী ও মেয়ের শ্লীলতাহানি, গাড়ি ভাঙচুর এবং নগদ পাঁচ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে। হামলায় গাড়িটির প্রায় ৭০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল-আমিন জানান, প্রাথমিক তদন্তে মাহাফুজুর রহমান হীরার সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন।
মাহাফুজুর রহমান হীরা শহরের পূর্ব বারান্দীপাড়া এলাকার আব্দুল মান্নানের ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনি এলাকায় যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এলাকায় নানা অনিয়ম ও চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। হীরা যশোর সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন বিপুলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আনোয়ার হোসেন বিপুল আত্মগোপনে থাকলেও তার ইন্ধন ও নির্দেশেই হীরা বর্তমানে যশোর শহরে নানা ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা ও অপতৎপরতা চালাচ্ছিলেন। এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তি গ্রেপ্তারের পর পরই জামিন পাওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


