জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে শনিবার ঢাকার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে দলের কেন্দ্রীয় র্যালি শুরু হবে। র্যালি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সকাল সাড়ে আটটায় দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে ফাতিহা পাঠ ও শ্রদ্ধা জানাবেন তিনি।
শুক্রবার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত কর্মসূচির প্রস্তুতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এসব তথ্য জানান।
রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী বক্তব্যের পর র্যালি শুরু হবে। নয়াপল্টন থেকে শুরু হয়ে র্যালিটি প্রধান বিচারপতির বাসভবনের কাছে গিয়ে ডান দিকে মোড় নেবে। এরপর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল, বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হবে।
তিনি জানান, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপি সাত দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর অংশ হিসেবে শুক্রবার দেশের অধিকাংশ জেলা ও মহানগরে র্যালি অনুষ্ঠিত হবে। চট্টগ্রাম মহানগরের র্যালি বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে তিনি নিজেও উপস্থিত ছিলেন। শুক্রবার কোথাও কোথাও র্যালি হতে পারে বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও পোস্টার প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। অন্যান্য রাজনৈতিক দল, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সংগঠনও দিবসটি পালনের কর্মসূচি নিয়েছে বলে জানান রিজভী। ১২ দলীয় জোটেরও কর্মসূচি রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
৭ নভেম্বরের তাৎপর্য তুলে ধরে রিজভী বলেন, এই দিনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের চর্চা, কথা বলার স্বাধীনতা ও মত প্রকাশের স্বাধীনতার সুযোগ তৈরি হয়েছিল। তিনি বলেন, দেশে যখনই একদলীয় দুঃশাসন বা একনায়কোচিত শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টা হয়েছে, তখনই ৭ নভেম্বরের চেতনা মানুষকে রুখে দাঁড়াতে উদ্বুদ্ধ করেছে। তার দাবি, পরবর্তী সময়ে এরশাদবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও এই চেতনার প্রতিফলন দেখা গেছে।
রিজভী আরও বলেন, শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে ৭ নভেম্বরের রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন বন্ধ করেছিল। এবার দীর্ঘদিন পর দিবসটি আবারও সরকারিভাবে জাতীয় পর্যায়ে পালন করা হবে। এ কারণে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও দিবসটি নিয়ে আগ্রহ রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।


