আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো কতটা যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য, তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল।
সোমবার সকালে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, আন্দোলনরত চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে স্বাস্থ্য সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বৈঠক করবেন। তিনি বলেন, এটি একটি গণতান্ত্রিক দেশ এবং আন্দোলন করার অধিকার সবার রয়েছে। তাদের দাবিগুলো পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, তারা কী বলেছে বা বলেনি, সেটি সরকারের বিবেচ্য বিষয় নয়। আইন মেনেই সব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সময় চেয়েছে এবং আদালত যেমন অনেক ক্ষেত্রে সময় দেয়, তেমনি সরকারও তাদের দুই দিন সময় দিয়েছে।
আদ্-দ্বীন হাসপাতাল প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, সরকারের দক্ষ আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। পাশাপাশি কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সততা ও ন্যায়নিষ্ঠার ভিত্তিতে সরকার তার অবস্থানে অটল থাকবে বলেও জানান তিনি।
এদিকে বাংলাদেশের ফার্মাসিউটিক্যাল খাতের অগ্রগতির কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের উৎপাদিত ওষুধ বিশ্বের ১৪০টিরও বেশি দেশে রফতানি হচ্ছে, যা দেশের স্বাস্থ্যখাতের সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি নির্দেশ করে।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, রোগীদের চিকিৎসা সহায়তায় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যালস ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এক লাখ ইউনিট আইভি স্যালাইন অনুদান দিয়েছে।
বর্তমানে কেন্দ্রীয় স্টোরে এক লাখ ইউনিট স্যালাইন মজুত রয়েছে এবং উপজেলা পর্যায়ে আরও ২০ থেকে ২৫ হাজার ইউনিট স্যালাইন সংরক্ষিত আছে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রস্তুতিও রয়েছে বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেন, ডেঙ্গু মৌসুম সামনে রেখে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং আক্রান্তের হার কমাতে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। একইসঙ্গে আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যখাত সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
এ ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণসহ স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।


