ভারতের গোয়ায় মারগাওয়ের জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে শনিবার সন্ধ্যায় সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতের কাছে ৩-১ গোলে হেরে গেছে বাংলাদেশ। এই হারের মাধ্যমে বাংলাদেশের টানা তৃতীয়বার সাফ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন ভেঙে গেল।
অন্যদিকে এই জয়ের মাধ্যমে ভারত ষষ্ঠবারের মতো এই টুর্নামেন্টের ট্রফি নিজেদের ঘরে তুলল। প্রথমার্ধে ঋতুপর্ণা চাকমার গোলে বাংলাদেশ সমতায় ফিরলেও দ্বিতীয়ার্ধে ভারত আরও দুটি গোল করে। এর ফলে পিটার বাটলারের শিষ্যদের ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক শিরোপা জেতা আর হলো না।
ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশ রক্ষণাত্মক কৌশল অবলম্বন করে। তারা নিজেদের রক্ষণভাগকে সুরক্ষিত রেখে খেলার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছিল। ম্যাচের চতুর্থ মিনিটে ভারতের সানফিদা নংরুম দূর থেকে শট নিলেও তা গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। এর কিছুক্ষণ পরেই আবেকা সিংকে ফাউল করার কারণে আফিদা খন্দকারকে হলুদ কার্ড দেখতে হয়। ম্যাচের ১২ মিনিটে বাংলাদেশ প্রথম নিশ্চিত গোলের সুযোগ পায়। বাম প্রান্ত থেকে ঋতুপর্ণার পাস খুঁজে পেয়েছিল শামসুন্নাহার জুনিয়রকে। কিন্তু গোলরক্ষককে একা পেয়েও তিনি বল জালে জড়াতে পারেননি। এর দুই মিনিট পর তহুরা খাতুন ভারতের গোলরক্ষককে একা পেয়েছিলেন। তবে ডিফেন্ডার জুলি কিষাণ দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে তহুরার প্রচেষ্টা নসাৎ করে দেন।
প্রথমার্ধের সবচেয়ে সহজ সুযোগটি পেয়েছিল ভারত। বাংলাদেশের রক্ষণভাগ একটি উঁচু বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে আস্তাম ওরাওঁ গোলপোস্টের সামনে বল পেয়ে যান। কিন্তু তার নেওয়া শটটি গোলবারের পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়। ম্যাচের ৩৮ মিনিটে গোলরক্ষক মিলি আক্তার ভারতের মনিষা কল্যাণের একটি দারুণ শট রুখে দেন। তবে ৪২ মিনিটে আর শেষ রক্ষা হয়নি। পেয়ারি জাক্সার গোলে এগিয়ে যায় ভারত। ডিফেন্ডার সুরভী আরফিন আরফিন বলটি ব্লক করতে এগিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু বল তার গায়ে লেগে ড্রপ খেয়ে এগিয়ে আসা মিলি আক্তারের মাথার ওপর দিয়ে জালে জড়িয়ে যায়। চলতি টুর্নামেন্টে মালদ্বীপ, বাংলাদেশ ও ভুটানের বিপক্ষে কোনো গোল না খাওয়া ভারতের জালে এটিই ছিল প্রথম গোল।
গোল খাওয়ার পরপরই বাংলাদেশ দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায়। আনিকা রানিয়ার পাস থেকে বল পান তহুরা। তার চমৎকার পাস ধরে ঋতুপর্ণা বাম প্রান্ত দিয়ে দ্রুত বক্সে ঢুকে পড়েন। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে তিনি নিখুঁত শটে বল দূরহ কোণ দিয়ে জালে জড়ান। এই গোলের সুবাদে ১-১ সমতায় থেকে দুই দল বিরতিতে যায়।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার মাত্র ৪৮ সেকেন্ডের মাথায় বাংলাদেশ আবার গোল খেয়ে বসে। পেয়ারি জাক্সার ক্রসে সানফিদা হেড করে ভারতকে আবারও এগিয়ে নেন। এই ধাক্কা বাংলাদেশ দল আর সামলে উঠতে পারেনি। ম্যাচের ৬০ মিনিটে কোচ পিটার বাটলার আনিকার পরিবর্তে মনিকা চাকমাকে মাঠে নামান। এর আগে ৫৮ মিনিটে বক্সের ভেতর মালবিকার চ্যালেঞ্জে শামসুন্নাহার জুনিয়র পড়ে গেলে বাংলাদেশ পেনাল্টির আবেদন করে। তবে রেফারি সেই আবেদনে সাড়া দেননি।
ম্যাচের ৫১ মিনিটে ঋতুপর্ণার কর্নার থেকে শামসুন্নাহার জুনিয়রের হেড গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। বাংলাদেশ তখন সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে খেলছিল। ৬৪ মিনিটে ভারতও একটি বড় সুযোগ হাতছাড়া করে। সানফিদার ক্রস থেকে মনিষা কল্যাণ খুব কাছ থেকেও বল লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। তবে ম্যাচের ৮৩ মিনিটে বাংলাদেশের সব আশা শেষ হয়ে যায়। রক্ষণভাগের এলোমেলো অবস্থার সুযোগ নিয়ে কাম সার্তো গোল করে ভারতের জয় ৩-১ ব্যবধানে নিশ্চিত করেন।
নেপালের বিপক্ষে সেমিফাইনালের জয়ী দল থেকে এই ম্যাচে দুটি পরিবর্তন এনেছিলেন কোচ বাটলার। সৌরভী আকন্দ প্রীতি এবং উমেহলা মারমার জায়গায় তিনি শামসুন্নাহার জুনিয়র ও তহুরা খাতুনকে একাদশে সুযোগ দেন। বাংলাদেশ ২০২২ এবং ২০২৪ সালে কাঠমান্ডুতে পরপর দুটি শিরোপা জিতে ফাইনালে খেলতে এসেছিল। অধিনায়ক মারিয়া মান্ডার দলের সামনে সুযোগ ছিল ভারতের বাইরে প্রথম দল হিসেবে টানা তিনটি সাফ শিরোপা জেতার। কিন্তু এই ম্যাচে ভারতই মাঠের লড়াইয়ে শক্তিশালী দল হিসেবে প্রমাণিত হলো।


