কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রাতভর থেমে থেমে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা সীমান্তের বিপরীতে নাপপুরা ও কড়ের দ্বীপসংলগ্ন এলাকা থেকে একাধিকবার গুলির বিকট শব্দ শোনা যায়। এতে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
তবে এই গোলাগুলিতে কোনো পক্ষ জড়িত ছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান আর্মির পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা রয়েছে বলে জানা গেছে।
হ্নীলা এলাকার বাসিন্দা হোসন আলী জানান, রাত ১১টা থেকে ভোর পর্যন্ত ওপার থেকে থেমে থেমে গুলির শব্দ ভেসে আসছিল। মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাখাইনের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটে, যা সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের সবসময় উদ্বেগে রাখে। একই এলাকার আরেক বাসিন্দা নজরুল ইসলামও রাতভর বিকট শব্দের কথা নিশ্চিত করে আতঙ্ক প্রকাশের কথা জানান।
এ বিষয়ে উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘মিয়ানমার সীমান্তের অভ্যন্তরে দুটি গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এটি ডাকাত দলের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষ কিংবা আরাকান আর্মির সঙ্গে ডাকাত দলের গোলাগুলি হতে পারে। বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।’
তিনি জানান, গোলাগুলির সময় কড়ের দ্বীপ এলাকা থেকে একটি নৌকায় করে কয়েকজন লোক প্রাণভয়ে এপারে আসার চেষ্টা করছিল। পরে বিজিবির পক্ষ থেকে ফাঁকা ফায়ার করা হলে তারা আর বাংলাদেশের সীমানায় প্রবেশ করতে পারেনি। সীমান্ত দিয়ে যাতে কোনো ধরনের অনুপ্রবেশ না ঘটে, সেজন্য বিজিবির কঠোর নিরাপত্তা ও তদারকি জোরদার করা হয়েছে।
সীমান্ত সূত্র জানিয়েছে, রাখাইন রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরেই আরাকান আর্মি ও রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সংঘাত চলছে। এতে সীমান্তসংলগ্ন টেকনাফ, উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ির বাংলাদেশ অংশে প্রায়ই বিস্ফোরণ ও গুলির শব্দ ভেসে আসে। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি বিবেচনায় হ্নীলা ও আশপাশের এলাকায় বিজিবির টহল বাড়োনো হয়েছে।


