আওয়ামী লীগের নেতা, সাবেক সংসদ সদস্য আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলায় দণ্ডিত আসামিদের আপিল শুনানি তৃতীয় দিনের মতো শেষ হয়েছে। মঙ্গলবার তৃতীয় দিনের শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ আগামী বুধবার পর্যন্ত শুনানি মুলতবি করে।
এদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা। আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী এস এম শাহজাহান।
এর আগে ২৮ জুলাই এ মামলায় আপিল শুনানি শুরু হয়। ২ আগস্ট দ্বিতীয় দিনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।
মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক ও শ্রমিকনেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার গাজীপুর-২ আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালের ৭ মে গাজীপুরের নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে সমাবেশে তাকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় করা হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল ঘোষিত রায়ে মামলার আসামি বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত। রায়ের পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন মারা যান।
২০০৫ সালে নিম্ন আদালতের রায়ের পর ডেথ রেফারেন্স হিসেবে মামলাটি হাইকোর্টে যায়। পাশাপাশি আসামিরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল ও জেল আপিল করেন। শুনানি শেষে ২০১৬ সালের ১৫ জুন বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেয়। রায়ে ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড ও দুজনের যাবজ্জীবন বহাল রাখে হাইকোর্ট। আর সাত জনের সাজা কমানো হয়। খালাস পান ১১ জন।
মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা ছয় আসামি হলেন, নুরুল ইসলাম সরকার, নুরুল ইসলাম দীপু, মাহবুবুর রহমান মাহবুব, শহীদুল ইসলাম শিপু, হাফিজ ওরফে কানা হাফিজ ও সোহাগ ওরফে সরু। এদের মধ্যে ৪ জানুয়ারি কাশিমপুর কারাগারে শিপু মারা যান। যাবজ্জীবন বহাল রাখা হয় টিপু ও নুরুল আমিনের।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে সাতজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় হাইকোর্ট। তারা হলেন, মো. আলী, সৈয়দ আহমেদ হোসেন মজনু, আনোয়ার হোসেন ওরফে আনু, রতন মিয়া ওরফে বড় মিয়া রতন, জাহাঙ্গীর ওরফে ছোট জাহাঙ্গীর, আবু সালাম ওরফে সালাম ও মশিউর রহমান ওরফে মনু।
এ ছাড়া মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পেয়েছেন আমির হোসেন, জাহাঙ্গীর ওরফে বড় জাহাঙ্গীর, ফয়সাল, রনি মিয়া ওরফে রনি ফকির, খোকন, লোকমান ও দুলাল মিয়া। একইসঙ্গে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড থেকে আরও খালাস পেয়েছেন মনির, রকিব উদ্দিন সরকার ওরফে পাপ্পু, আইয়ুব আলী ও জাহাঙ্গীর।
পরে দণ্ডিত আসামিরা আপিল করেন।


