রাজধানীর বসুন্ধরায় বকেয়া ও অন্যান্য পাওনার দাবিতে কর্মসূচি পালন করছেন গ্রামীণফোনের (জিপি) পাঁচ শতাধিক সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী। ‘অন্যায়ভাবে’ চাকরিচ্যুতির অভিযোগ এনে বকেয়া পাওনার দাবিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে আসছেন। মঙ্গলবার পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি পালনকালে পুলিশ ছয়জনকে আটক করেছে।
আটককৃতরা হলেন-খালিদ মামুন, বুলবুল, নজরুল, কালাম, মজিবর ও কোরেইশি।
মঙ্গলবার সকালে বসুন্ধরাস্থিত জিপির প্রধান কার্যালয়ের সামনে ‘গ্রামীণফোন ৫ শতাংশ বিলম্ব বকেয়া আদায় ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে এই গণঅবস্থান কর্মসূচির আহ্বান করেন সাবেক কর্মীরা।
জানা গেছে, সকাল থেকে কর্মীরা গ্রামীণফোনের প্রধান কার্যালয়ের আশেপাশে অবস্থান নেন। যমুনা ফিউচার পার্কসহ আশেপাশের গলিতে অবস্থান নেওয়ার সময় ছয়জনকে আটক করে ভাটারা থানা পুলিশ। এ সময় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে গ্রামীণফোনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।
ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ছয়জনকে থানায় নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে, অন্যথায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে।’
আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘এই কর্মসূচিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রায় ৬০০ সাবেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং তাদের পরিবারের সদস্যরা অংশ নিয়েছেন। অংশগ্রহণকারীরা দীর্ঘদিনের বকেয়া ৫ শতাংশ বিলম্ব পাওনা পরিশোধের দাবি জানিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ ও আলোচনাভিত্তিক সমাধানের প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন।’
গ্রামীণফোনের হেড অব কমিউনিকেশনস শারফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানান, গ্রামীণফোনের কিছু সাবেক কর্মী যে দাবিগুলো তুলেছেন, সেগুলো বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। তাই আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতেই এসব বিষয়ের নিষ্পত্তি হবে বলে বিশ্বাস করে গ্রামীণফোন।
পুলিশ মোতায়েনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গ্রামীণফোন তার কর্মী এবং কোম্পানির সম্পদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে যথাযথ আইনি প্রতিকার নিতে বাধ্য হয়েছে। ব্যক্তি ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জিপি হাউজের আশেপাশে মোতায়েন রয়েছে।’
এর আগেও বিভিন্ন সময় আন্দোলন কর্মসূচি পালন করেছিলেন গ্রামীণফোনের সাবেক এই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এর মধ্যে ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘চাকরিচ্যুত ও অধিকার বঞ্চিত গ্রামীণফোন শ্রমিক ঐক্য পরিষদ’-এর ব্যানারে তারা বিক্ষোভ করেন। ওই দিন জলকামান ও লাঠিপেটা করে আন্দোলনরতদের ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছিল পুলিশ। সে সময় নারীসহ আন্দোলনকারীদের বেশ কয়েকজনকে আটকও করা হয়েছিল।


