বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক: সীমান্তে বেড়া নির্মাণ বন্ধ রাখবে ভারত

বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক: সীমান্তে বেড়া নির্মাণ বন্ধ রাখবে ভারত
বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠক। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

লালমনিরহাটের পাটগ্রামের দহগ্রাম সীমান্তে ভারতের বেড়া নির্মাণচেষ্টা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় পতাকা বৈঠক করেছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।

শনিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত ভারতের অভ্যন্তরে ৫১ বিজিবি রংপুর ব্যাটালিয়নের পানবাড়ি বিওপির অধীনে থাকা আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ৮১২ সংলগ্ন এলাকায় কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ৫১ বিজিবি রংপুর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমান। ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিএসএফের ১৭৪ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্ট বিনোদ কুমার।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিএসএফ সদস্য ও ভারতীয় শ্রমিকরা শূন্যরেখার ১০ থেকে ২০ গজের মধ্যে জমি পরিমাপ করে রড ও বাঁশের খুঁটি স্থাপনের কাজ শুরু করেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। এ নিয়ে সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেন।

পরে উচ্চ পর্যায়ের এই পতাকা বৈঠক আহ্বান করা হয়।

বৈঠকে শূন্যরেখার ৫০ গজের মধ্যে বাঁশের খুঁটি ও বেড়া নির্মাণের উদ্যোগের ঘটনায় তীব্র আপত্তি জানায় বিজিবি।

আরও পড়ুন

বিজিবি জানায়, আন্তর্জাতিক সীমান্ত বিধিমালা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো স্থায়ী স্থাপনা বা কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের অনুমতি নেই।

জবাবে বিএসএফের কমান্ড্যান্ট বলেন, সীমান্তের ভারতীয় অংশে ভূমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জমি পরিমাপের কাজের অংশ হিসেবেই এসব কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। তিনি অভিযোগ করেন, কয়েকজন বাংলাদেশি কৃষক ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে ধান ও ভুট্টা কেটে নিয়েছেন। এ ধরনের অবৈধ প্রবেশ ঠেকাতে বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিজিবির অধিনায়ক দুঃখ প্রকাশ করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে সে জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন।

লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজিউর রহমান বলেন, ‘ভারতীয় ভূখণ্ডে জমি অধিগ্রহণে বাংলাদেশের কোনো আপত্তি নেই। তবে আন্তর্জাতিক বিধিমালা অনুযায়ী শূন্যরেখার ১৫০ গজের মধ্যে কোনো স্থায়ী স্থাপনা বা বেড়া নির্মাণ করা যাবে না।’

কথিত পুশইনের বিষয়ে বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়, সীমান্ত এলাকায় এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। ভারতে অনুপ্রবেশের অভিযোগে আটক কোনো বাংলাদেশি নাগরিককে পুশইনের মাধ্যমে ফেরত না পাঠিয়ে প্রচলিত আইনগত প্রক্রিয়া ও পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত দেওয়ারও আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৈঠকে বিএসএফের কমান্ড্যান্ট আশ্বাস দেন, সীমান্তের সংরক্ষিত এলাকায় কোনো স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা হবে না এবং ভবিষ্যতে কোনো পুশইনও ঘটবে না।

এ সময় দুই পক্ষই সীমান্তসংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা দ্রুত ও শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানে সীমান্ত ফাঁড়ি ও কোম্পানি কমান্ডারদের মধ্যে যোগাযোগ আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর