বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) কর্তৃক গ্রাহক ও পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
এই বর্ধিত মূল্য অবিলম্বে প্রত্যাহার এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের দাবিতে বৃহস্পতিবার রাজধানীসহ দেশের সব মহানগরীতে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে দলটি।
বুধবার জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে এই প্রতিবাদ ও কর্মসূচি ঘোষণা দেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, সরকার সাধারণ মানুষের পকেট কাটার এক চরম ও নিষ্ঠুর খেলায় মেতে উঠেছে। আসন্ন বাজেটকে সামনে রেখে তড়িঘড়ি করে বিদ্যুতের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ওপর এক বড় ধরনের জুলুম। এমনিতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামের ঊর্ধ্বগতিতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে, তার ওপর বিদ্যুতের এই মূল্যবৃদ্ধি ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ হিসেবে দেখা দেবে।
তিনি উল্লেখ করেন, বিইআরসি’র আদেশ অনুযায়ী পাইকারিতে গড় দাম ৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৯ পয়সা এবং খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিটের গড় দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা করা হয়েছে।
একই সঙ্গে সঞ্চালন চার্জও প্রায় ২৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। বিদ্যুতের এই দাম বাড়ার ফলে দেশের শিল্প ও কৃষি উৎপাদন খরচ ব্যাপক আকারে বৃদ্ধি পাবে। কলকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষি খাতে স্থবিরতা নেমে আসবে এবং চাল, ডাল, তেলসহ সকল নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আরও বেড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠবে।
মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ খাতের সীমাহীন দুর্নীতি, অপচয় এবং কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্যাপাসিটি চার্জের নামে জনগণের হাজার হাজার কোটি টাকা লুটের খেসারত দিতেই বারবার জনগণের ওপর এই মূল্যবৃদ্ধির বোঝা চাপানো হচ্ছে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি প্রত্যাহার এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের দাবিতে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সব মহানগরী সংগঠন বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে।
ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে বৃহস্পতিবার বিকাল ৫টায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। দলটির পক্ষ থেকে সর্বস্তরের জনশক্তি ও দেশবাসীকে এই কর্মসূচি সফল করার আহ্বান জানানো হয়।


