ঈদুল আজহা ঘিরে এখন পর্যন্ত কোনো হুমকি না থাকায় বিশেষ নিরাপত্তার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ।
তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত সবকিছু স্বাভাবিক। আমরা অস্বাভাবিক কিছু দেখছি না। স্বাভাবিকতাই সবার প্রত্যাশিত। তবুও নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিজস্ব কার্যক্রম ও ব্যবস্থা রয়েছে।’
মঙ্গলবার দেশের জাতীয় এবং অন্য ঈদগাহে ঈদুল আজহার নামাজের নিরাপত্তা এবং দেশবাসীর নির্বিঘ্নে ঈদ উৎসব উদযাপনে র্যাবের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে জাতীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন র্যাব মহাপরিচালক।
ঈদুল আজহা ঘিরে র্যাবের পরিকল্পনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো থ্রেট (হুমকি) বোধ করছি না। তাই বিশেষ নিরাপত্তার তো প্রয়োজন নাই।’
‘ঈদের নামাজে এতো নিরাপত্তা তো দরকার নাই। সব তো স্বাভাবিক। তাছাড়া সারা দেশের সব জায়গায় সব জামাতে নিরাপত্তা দেওয়াও সম্ভব না। আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সব জায়গায় চেষ্টা করছি। আমরা মনে করি, নিরাপদ অবস্থায়ই আমরা বাস করছি। যেখানে মনে হবে জনসমাগম বেশি সেখানে আমাদের ব্যবস্থা থাকবে’, যোগ করেন আহসান হাবীব।
তিনি বলেন, ‘আশা করি সবাই চেষ্টা করব যাতে নিরাপদে আমাদের ঈদের জামাতগুলো শেষ করতে পারি। আমি মনে করি এবার কোনো সমস্যায় পড়ব না।’
ঈদ ঘিরে র্যাব কোনও ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক বলেন, ‘সবসময় যেমন শুনে আসছেন এখনো পরিস্থিতি তেমনই স্বাভাবিক। আমরা চাই এ স্বাভাবিকতাটুকু থাকুক। আমি মনে করি না কোনো থ্রেট আছে। সুতরাং এরপরেও আর কোনো বিশেষ ব্যবস্থার দরকার আছে বলে মনে করছি না।’
ঈদে ঘরমুখো মানুষের রাজধানী ছাড়ার কারণে ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ঈদে বেশিরভাগ মানুষ গ্রামে চলে যাওয়ায় শহরের জনসংখ্যা কমে যায়। কিছু চুরির ঘটনা বেড়ে যায়। এ জন্য অন্য সময়ের তুলনায় বেশি পেট্রোল টিম কাজ করবে। দিনে-রাতে গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। যদি কোনো অপরাধ ঘটে মানুষ জরুরি হেল্পলাইনে সহযোগিতা নিতে পারে। আমরা যেকোনো সময় এসব ক্ষেত্রে সাড়া দিতে প্রস্তুত।’
র্যাব মহাপরিচালক আরও জানান, দেশব্যাপী বিভিন্ন জায়গায় অন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে চেকপোস্ট বসিয়ে কঠোর তল্লাশির মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
কালোবাজারি ও অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধ মজুতসহ দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি, খাদ্যে ভেজাল, নকল দ্রব্য বাজারজাত করে যেন অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে সেজন্য র্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি ও অনলাইন মনিটরিং কার্যক্রম সার্বক্ষণিক কার্যকর রয়েছে বলেও জানান তিনি।
পাশাপাশি কোরবানির হাটে ক্রেতাদের ভোগান্তি কমাতে জাল টাকা প্রতিরোধ এবং শনাক্তে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখাসহ জাল টাকা প্রস্তুতকারীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে আহসান হাবীব বলেন, ‘ঈদ ঘিরে ঘরমুখো মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাস, লঞ্চ টার্মিনালের পাশাপাশি ট্রেন স্টেশনগুলোতেও র্যাবের বাড়তি নজরদারি রয়েছে।’


