নারায়ণগঞ্জে এস এম মালেহ রোড টানবাজার এলাকায় অবস্থিত রাসেল গার্মেন্টস অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়ায় কারখানার সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা।
এতে বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত পাঁচ ঘন্টা সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।
আন্দোলনরত শ্রমিকদের দাবি, অশোভন আচরণের কারণে কারখানার জেনারেল ম্যানেজার গোলাম মোস্তফার অপসারণ, শ্রম আইন অনুযায়ী ছুটি প্রদান, অনিয়মতান্ত্রিক শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধসহ মোট ১৯ দফা দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে।
এদিন সকালে শহরের এক নাম্বার রেলগেট এলাকায় গার্মেন্টসের সামনে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভকারী শ্রমিকরা মাইক লাগিয়ে বিভিন্ন প্রকার স্লোগান দিতে থাকেন।
এ সময় নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে সাময়িক যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
শ্রমিকরা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সকালে কাজে এসে দেখতে পান, তারা যেখানে কাজ করেন সেই গার্মেন্টসটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এ কারণে প্রধান ফটকে তালা থাকায় তারা গার্মেন্টসে প্রবেশ করতে পারেননি।
শ্রমিকদের অভিযোগ, গার্মেন্টসের জেনারেল ম্যানেজার, প্রোডাকশান ম্যানেজার এবং সুপারভাইজার তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে।
পরিবারের কেউ অসুস্থ হলে ছুটি দেয় না। কোনো কারণে একদিন না আসলে, পাঁচ দিন অনুপস্থিত দেখায়। মালিক পক্ষ কিছু না জানিয়ে হঠাৎ কারখানার গেটে তালা লাগিয়ে কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে।
তারা আরও জানান, গত চার দিন যাবত এসব দাবি নিয়ে কারখানার ভেতরে আন্দোলন করছিলেন তারা। আজ গার্মেন্টস বন্ধ হওয়ায় তারা সড়কে নামেন।
এর আগে, বুধবার কারখানার মালিক পক্ষ বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬ এর ১৩ (১) ধারা মোতাবেক অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম জানান, শ্রমিকরা জেনারেল ম্যানেজারের অপসারণসহ বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ করছেন। মালিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
অন্যদিকে, সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় অবস্থিত কোরেশ বাংলাদেশ লিমিটেড কারখানায় নভেম্বর ও চলতি ডিসেম্বর মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে বৃহস্পতিবার শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করেন।
এক পর্যায়ে বেলা পৌনে ১টায় শ্রমিকরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করলে সড়কে সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হয়।
কারখানা সূত্রে জানা গেছে, বিজিএমইএ ভুক্ত সোয়েটার ক্যাটাগরির এই প্রতিষ্ঠানে মোট ৩০০ জন শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন।
খবর পেয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশের আশ্বাসের পর দুপুর পৌনে ২টায় শ্রমিকরা মহাসড়ক থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়।


