খুলনার ডুমুরিয়ার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের একটি খামারে বেড়ে ওঠা বিশাল আকৃতির ফ্রিজিয়ান ষাঁড় ‘রাজা মানিক’ এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন এই বিশাল ষাঁড়টি দেখতে। বিশাল দেহ, শান্ত স্বভাবের ‘রাজা মানিক’ স্থানীয়দের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
খামার মালিক মিনু সাহা জানান, প্রায় পাঁচ বছর ধরে নিজের সন্তানের মতো করে তিনি গরুটিকে লালন-পালন করেছেন। তিনি গরুটিকে ‘মানিক’ নামে ডাকতেন। পরে এলাকার শিশু-কিশোররা মজা করে নামের আগে ‘রাজা’ যুক্ত করে দেয়। এরপর থেকেই সবার কাছে এটি ‘রাজা মানিক’ নামেই পরিচিত হয়ে ওঠে।
পাঁচ বছর বয়সী ফ্রিজিয়ান ষাড়টির ওজন প্রায় ১ হাজার ৪০০ কেজি বলে জনান মিনু সাহা।
তিনি বলেন, সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও নিরাপদ পদ্ধতিতে গরুটিকে বড় করা হয়েছে। কোনো ধরনের ক্ষতিকর স্টেরয়েড বা হরমোন ব্যবহার করা হয়নি। প্রতিদিন গরুটিকে ভাত, ভুট্টার গুঁড়ো, গমের ভুষি, খৈল, ঘাস, খড় এবং বিভিন্ন ফলমূল খাওয়ানো হয়। শরীর সুস্থ রাখতে মাঝে মধ্যে সামান্য লবণও দেওয়া হয়।
মিনু সাহা জানান, রাজা মানিক ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড়। বাড়ির পুরোনো গাভির বংশ থেকেই এর জন্ম। গত বছরও গরুটি বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল। তবে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় বিক্রি করা হয়নি।
এবার গরুটির দাম চাওয়া হয়েছে ১৪ লাখ টাকা। তবে মিনু সাহা জানান, ১২ লাখ টাকা পেলেও তিনি গরুটি বিক্রি করে দেবেন। তিনি বলেন, ‘শারীরিক অসুস্থতার কারণে এত বড় ষাঁড় এখন আর পালন করা আমার পক্ষে সহজ নয়।’
খামার মালিকের দাবি, বর্তমানে পশুখাদ্যের উচ্চমূল্য গরু পালনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিটি গরুর পেছনে প্রতিদিন প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মিনু সাহা জানান, ঈদে বিক্রির উপযুক্ত তার কাছে চারটি দেশি ও অস্ট্রেলিয়ার জাতের গরু রয়েছে।
জানা গেছে, কয়েকদিন আগে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আশরাফুল কবির, ভেটেরিনারি সার্জন আবু সাঈদ সুমন এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা মিনু সাহার খামার পরিদর্শন করেন।


