ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)।
রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ নিন্দা জানায় সংগঠনটি।
সংগঠনটি জানায়, কোনো ব্যক্তি সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করলে কিংবা চোরাচালান বা অন্য কোনো অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলেও তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের সুযোগ রয়েছে। বিচারবহির্ভূতভাবে সরাসরি গুলি করে হত্যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
আসক বলেছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সীমান্তে অনিয়মিত প্রবেশ বা সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটলেও প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগকে সাধারণ বা গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হিসেবে দেখা হয় না। মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতিমালা অনুযায়ী জীবন রক্ষার বাধ্যবাধকতাই সর্বাগ্রে বিবেচ্য হওয়া উচিত।
সংগঠনটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ৯ মে পর্যন্ত সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলি ও নির্যাতনে অন্তত ছয় বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগ ও গুলিতে হতাহতের ঘটনা একটি উদ্বেগজনক মানবাধিকার সংকট হিসেবে উল্লেখ করা হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
আসক আরও জানায়, সীমান্ত হত্যা বন্ধে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন পর্যায় থেকে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে গুলি ও প্রাণহানির ঘটনা বন্ধ হচ্ছে না, যা গভীর উদ্বেগের বিষয়।
সংগঠনটি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, দ্বিপাক্ষিক ও কূটনৈতিক আলোচনায় সীমান্ত হত্যা ইস্যুকে সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে উপস্থাপন করতে হবে। একইসঙ্গে সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ, দায়বদ্ধতা নিশ্চিত এবং মানবাধিকারসম্মত আচরণ নিশ্চিত করতে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে ভারত সরকারের প্রতিও আহ্বান জানানো হয়।
পাশাপাশি ভারতের মানবাধিকার সংগঠন, নাগরিক সমাজ ও গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর প্রতিও সীমান্তে সরাসরি গুলি করে হত্যার মতো অমানবিক ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলপ্রয়োগ বন্ধে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে আসক।
সংগঠনটি মনে করে, বাংলাদেশ ও ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধের স্বার্থে সীমান্ত হত্যা বন্ধ হওয়া জরুরি। সীমান্ত কখনোই মানুষের জীবনহানির ক্ষেত্র হতে পারে না; বরং তা হওয়া উচিত আইনের শাসন, মানবিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের প্রতিফলন।
উল্লেখ্য,শুক্রবার গভীর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে মোরছালিন (২২) ও নবীর হোসেন (৪০) নামে দুই বাংলাদেশি নিহত হন। পরে শনিবার বিকালে তাদের মরদেহ ফেরত দেয় বিএসএফ।


