ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর কোচবিহার জেলায় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একটি মুসলিম পরিবারের ওপর হামলা ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তারা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুসলিম হওয়ার কারণেই পরিকল্পিতভাবে এই হামলার শিকার হয়েছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহার জেলার দিনহাটা মহকুমার মশালডাঙ্গা গ্রামে। ভুক্তভোগী মো. ওসমান গণি ২০১৫ সালের ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় চুক্তির আওতায় ভারতীয় নাগরিকত্ব গ্রহণ করে গত ১০ বছর ধরে সেখানে বসবাস করছেন। তবে তার বাবা মহির উদ্দিন বাংলাদেশি নাগরিকত্ব অক্ষুন্ন রেখে কুড়িগ্রামে থেকে যান।
মহির উদ্দিন জানান, ওসমান গণি একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এই হামলার বর্ণনা দিয়েছেন। তার দাবি, পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে জয়ী ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সমর্থকরা এই হামলা চালিয়েছে।
ভিডিও বার্তায় ওসমান গণি জানান, ২০১৫ সালে তারা ভারতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন এবং সেখানে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা নেই। তিনি পেশায় একজন ব্যবসায়ী। ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর একদল লোক তাদের বাড়িতে এসে চড়াও হয়। হামলাকারীরা তাদের বাংলাদেশি হিসেবে গালিগালাজ করে এবং বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর হামলার প্রসঙ্গ টেনে তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
হামলার ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে ওসমান গণি বলেন, আক্রমণকারীরা তার ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেছে এবং ঘরে থাকা স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে গেছে। এছাড়া তারা দুটি মোটরসাইকেল ও একটি ব্যক্তিগত গাড়িও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বর্তমানে তাদের ঘরে খাওয়ার মতো কিছু অবশিষ্ট নেই।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সেখানে বর্তমানে থাকার মতো কোনো পরিবেশ নেই এবং এই অবস্থায় তিনি কোথায় যাবেন তা নিয়ে চরম শঙ্কায় রয়েছেন।
ওসমান গণি এই উদ্ভূত পরিস্থিতি নিরসনে এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দুই দেশের হাইকমিশনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তিনি আরও জানান, তার পরিবারের তিনজন সদস্য আগে ভারতের ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত ছিলেন। তবে সম্প্রতি রহস্যজনকভাবে ভোটার তালিকা থেকে দুইজনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগীর বাবা মো. মহির উদ্দিন জানান, ৫ মে বিকালে তার ছেলের সঙ্গে শেষবার কথা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, হামলার পর থেকে তার ছেলের পরিবার বর্তমানে ঘরছাড়া ও বাস্তুচ্যুত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। ছিটমহল বিনিময়ের পর তার ছেলে আইনগতভাবে দিনহাটার মশালডাঙ্গায় স্থায়ী হয়েছিল। তিনি এই বর্বরোচিত হামলার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ছিটমহল বিনিময় চুক্তির আওতায় ওসমান গণি ও তার পরিবার ভারতীয় নাগরিকত্ব বেছে নেন। ওই বছরের ২২ নভেম্বর তারা ভারতে চলে যান। ভারত সরকার শুরুতে তাদের পাঁচ বছর দিনহাটা কৃষি মেলা প্রাঙ্গণে পুনর্বাসন করেছিল। পরবর্তীতে দিনহাটার হিমঘরে তাদের জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণ করে দেওয়া হলেও ওসমান গণি নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে মশালডাঙ্গায় জমি কিনে বাড়ি তৈরি করেছিলেন।


