বিমানবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির সঙ্গে থাকা ‘জুনিয়র’ আহমেদ সাহরিয়ার রেজা দীপকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। নিখোঁজ হওয়ার আগে তাহসিফের সঙ্গে প্রায় ছয় ঘণ্টা সময় কাটিয়েছিলেন দীপ।
বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানী ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার বাবর রোডের বি ব্লকের একটি বাসার তৃতীয় তলা থেকে তাকে হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। দ্বীপ ওই এলাকার বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা রাতেই বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘তাহসিফ সাউরি মৃত্যুর ঘটনায় দীপকে পিবিআই সদস্যরা নিয়ে গেছেন। এ বিষয়ে আমার আর বিস্তারিত কিছু জানা নেই।’
পিবিআই সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার আবু ইউসুফ বলেন, তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় জিজ্ঞাসবাদ ও তথ্য সংগ্রহের জন্য দীপকে পিবিআই ঢাকা মেট্রো উত্তরে নেওয়া হয়েছে, যেহেতু তারা দুজন একসঙ্গে ছিলেন। ঘটনার রাতে তারা কোথায় কোথায় গিয়েছিলেন সে বিষয়ে তার দেওয়া কিছু তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে।
তাহসিফ সাউরি নিখোঁজ হওয়ার আগের সময়ের সিসিটিভি ফুটেজে তাকে এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা যায়। পরিবারের সদস্যরা ওই ব্যক্তিকে দীপ হিসেবে শনাক্ত করেন। ফুটেজে দেখা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টরে রাজউক উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের একটি গ্যারেজের সামনে তাহসিফের সঙ্গে দীপের দেখা হয়। তারা হাত মেলানোর পর আলাদা দুটি মোটরসাইকেলে সেখান থেকে চলে যান।
তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম জানান, দীপের ডাকে সাড়া দিয়েই তাহসিফ বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। ঘটনার দিন পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানোর পাশাপাশি সবার জন্য কেনাকাটা করেছিলেন তার ছেলে। সন্ধ্যার পর দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকেই তার খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
পরে দীপ জানিয়েছিলেন, তাহসিফের মোটরসাইকেলে সমস্যা থাকায় তারা ওয়ার্কশপে যান। মোটরসাইকেল ঠিক করার পর সেখান থেকে রুয়াপ কমপ্লেক্সে গিয়ে একটি রেস্টুরেন্টে একসঙ্গে রাতের খাবার খান। এরপর দীপ নিজের একটি কাজে চলে যান এবং পরে নিজের বাসায় ফিরে আসেন।
সেদিন ঠিক কতক্ষণ তিনি এবং তাহসিফ একসঙ্গে ছিলেন, তা নির্দিষ্ট করে বলতে না পারলেও রাত প্রায় সাড়ে ১১টা পর্যন্ত তারা একসঙ্গে ছিলেন বলে জানান দীপ।
তার দাবি, তাহসিফ সাউরির সঙ্গে তার আগেও দেখা হয়েছে এবং তারা একসঙ্গে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে গিয়েছেন।
তাহসিফের সঙ্গে দেখা করার পরের ঘটনাগুলো নিয়ে কথা বলার জন্য দীপকে তার বাসার সামনে এসে বক্তব্য দিতে বলা হলে তিনি জানান, বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে বাসায় আছেন। বাবা-মায়ের সম্মতি ছাড়া এ বিষয়ে বাইরে এসে কথা বলতে পারবেন না।
এদিকে তাহসিফ সাউরি যে মোটরসাইকেল নিয়ে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন সেটির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
মঙ্গলবার রাতে স্থানীয় এক তরুণ দীপকে সঙ্গে নিয়ে উত্তরার বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। পরে বুধবার বিকালে তুরাগ নদী থেকে তাহসিফের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। সঙ্গে থাকা হাতঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে মরদেহটি তাহসিফ সাউরির বলে শনাক্ত করা হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের মসজিদে জানাজার নামাজ শেষে রাজধানীর উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাহসিফ সাউরিকে দাফন করা হয়।


