বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ বৃহস্পতিবার সকালে ময়নাতদন্তের পর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে নিয়েছে নৌ পুলিশ। বেলা দেড়টা পর্যন্ত মরদেহ নিতে তার কোনো স্বজন হাসপাতালের মর্গে আসেননি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার সময় তার হেলিকপ্টারে ওঠার ভাইরাল ভিডিওটি তিনিই ধারণ ও প্রকাশ করেছিলেন বলে কথিত আছে। তবে কয়েক মাস আগে এক পডকাস্টে তিনি একে প্রমাণহীন অভিযোগ বলে আখ্যা দেন। অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে তাকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়, এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। সর্বশেষ তিনি ভার্গো টোব্যাকো লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।
উত্তরখান থানা সূত্রে জানা গেছে, তাহসিফ সাউরি গত মঙ্গলবার রাত থেকে নিখোঁজ ছিলেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, বুধবার রাত ৯টায় উত্তরা নৌ পুলিশের সদস্যরা সাবেক বিমানবাহিনী কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ হাসপাতালের মর্গে নিয়ে আসে। এরপর বৃহস্পতিবার সকালে চিকিৎসক আসার পর তার মরদেহ ময়নাতদন্ত করা হয়। বুধবার রাতে মরদেহ হাসপাতালে আনার সময় নৌ পুলিশের সঙ্গে তাহসিফের একজন স্বজনও ছিলেন। তবে মরদেহ রেখে তিনি চলে যাওয়ার পর আর কোনো স্বজন হাসপাতালে আসেননি।
সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে মরদেহ নিয়ে আসা নৌ পুলিশের কন্সটেবল হানিফ বলেন, ‘আমি বুধবার মরদেহ নিয়ে এসেছি। তখন আমাদের সঙ্গে একজন স্বজন এসেছিলেন। তিনি গতকাল রাতে মরদেহ রেখে চলে গেছেন। এরপর আর কোন স্বজন হাসপাতালে আসেননি। ময়নাতদন্ত প্রায় শেষ। এখন স্বজন না আসলে আমরা কার কাছে মরদেহ হস্তান্তর করব তা বলতে পারছি না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ময়নাতদন্ত শেষে যদি কোন স্বজন না আসে তাহলে আমরা মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রেখে দেব। পরে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলামের মাধ্যমে যেভাবে দাফন করা যায় সেভাবেই তা করা হবে।’
এর আগে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বর থেকে তুরাগ নদে একটি ভাসমান মরদেহের খবর পায় নৌ পুলিশ। পরে বুধবার বিকাল ৪টার দিকে সেখানে থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ সময় মরদেহের সঙ্গে থাকা মোবাইল ফোনের সাহায্যে সেটি অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির বলে শনাক্ত করা হয়। পরে তার এক আত্মীয়কে খবর দেওয়া হয়।


