রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের একটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ৯৪ কোটি টাকা মূল্যের স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাতের অভিযোগে কৃষ্ণ বসাক ওরফে স্বপন বশাক নামে এক সাবেক সেলসম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
মঙ্গলবার দুপুরে তেজগাঁও থানাধীন বসুন্ধরা সিটির সামনের সড়ক থেকে সিআইডির ঢাকা মেট্রো পশ্চিম বিভাগের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত কৃষ্ণ বসাক মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের গৌর চন্দ্র বসাকের ছেলে। বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সে একাধিক দোকানের মালিক ওই প্রতিষ্ঠানের স্টক যাচাইয়ের সময় বিপুল পরিমাণ স্বর্ণের ঘাটতি লক্ষ্য করেন।
২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে দোকান থেকে মোট ৭ হাজার ৫৫০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাৎ করা হয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৯৪ কোটি ৩৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই ঘটনায় তেজগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের করা হলে তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্রেপ্তারকৃত কৃষ্ণ বসাক ওই প্রতিষ্ঠানে মাত্র ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা মাসিক বেতনে সেলসম্যান হিসেবে কাজ করতেন। কিন্তু স্বর্ণ আত্মসাতের মাধ্যমে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। প্রাথমিক তদন্ত ও আয়কর নথি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, তিনি নিজে একটি জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের মালিক হিসেবে ৩৩ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছেন।
এ ছাড়া তার নামে ৪৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা মূল্যের ফ্ল্যাট ও পার্কিং স্পেস, পুঁজিবাজারে ১৬ লাখ ৭৮ হাজার টাকার বেশি বিনিয়োগ এবং আয়কর নথিতে ৫০ ভরি স্বর্ণের তথ্য পাওয়া গেছে। তার ব্যাংক হিসেবেও অস্বাভাবিক লেনদেনের প্রমাণ পেয়েছে সিআইডি।
সিআইডি আরও জানায়, এই আত্মসাতের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মচারীদেরও যোগসাজশ রয়েছে। এর আগে এই মামলায় গ্রেপ্তারকৃত অন্য এক আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
বর্তমানে কৃষ্ণ বসাককে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ রহস্য উদ্ঘাটন এবং আত্মসাৎকৃত স্বর্ণ উদ্ধারে সিআইডির অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


