ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি হামলায় কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার চিত্রগ্রাহকসহ অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে বার্তা সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, শনিবার রাত ২টার দিকে প্রথম হামলাটি হয় গাজা সিটির একটি অ্যাপার্টমেন্টে। ঘটনাস্থলের ভিডিওতে দেখা যায়, ধ্বংসস্তূপে রক্তমাখা কংক্রিটের টুকরা পড়ে আছে।
নিহত দুই শিশু আপন বোন বলে জানিয়েছে স্বজনরা। তাদের একজন ৪ বছর বয়সী জিনা ও অন্যজন ১৪ বছর বয়সী লানা। দুই শিশুর মরদেহ আল শিফা হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
নিহতদের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ সাফাদিও হামলায় আহত হন। তিনি বলেন, ‘আমি ঘরে বসে ছিলাম। কোনো সতর্কতা ছাড়াই ক্ষেপণাস্ত্রটি আমাদের ওপর এসে পড়ে।’ হামলায় তার স্ত্রীও আহত হয়েছেন বলে জানান সাফাদি।
বলেন, ‘এই যে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী ও আলোচনাকারীরা যুদ্ধবিরতির কথা বলছে… এটা কি সত্যিই যুদ্ধবিরতি? আমরা বেসামরিক মানুষ। আমি তো কখনো অস্ত্র ধরিনি। তবে আমার পরিবার কেন যুদ্ধে মারা যাচ্ছে?’
এদিকে হামলায় শিশু নিহতের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের আরও তিনটি হামলায় অন্তত চারজন নিহত এবং অন্তত ১২ জন আহত হন।
প্রথম হামলাটি হয় মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থীশিবিরের একটি বাড়িতে। কোনো সতর্কতা ছাড়াই চালানো ওই হামলায় তিনজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে আল জাজিরার চিত্রগ্রাহক আহমেদ উইশাহ ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে আল আকসা হাসপাতাল।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাও উইশাহর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এর আগে এপ্রিলে ইসরায়েলি হামলায় উইশাহর ভাই মোহাম্মদ নিহত হন। তিনিও আল জাজিরার সংবাদদাতা ছিলেন।
শনিবারের আরেক হামলায় দক্ষিণ গাজার মুওয়াসি শিবিরে একদল মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এতে একজন নিহত এবং আর আটজন আহত হন বলে জানিয়েছে নাসের হাসপাতাল। হতাহতদের ওই হাসপাতালেই নেওয়া হয়।
তৃতীয় হামলাটি হয় গাজা সিটিতে। সেখানে অন্তত চারজন আহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করে শিফা হাসপাতাল।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা ‘সুনির্দিষ্ট হামলায়’ আল জাজিরার ওই চিত্রগ্রাহককে হত্যা করেছে। বাহিনীটির দাবি, তিনি হামাসের সামরিক শাখার সদস্য ছিলেন এবং ওই এলাকায় অবস্থানরত সেনাদের জন্য হুমকি সৃষ্টি করেছিলেন।
ইসরায়েল বলছে, এসব হামলায় হামাস ও অন্য সশস্ত্র সদস্যদের লক্ষ্য করা হয়েছে। যুদ্ধবিরতির পর থেকে হামাস ও বিচ্ছিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় পাঁচ ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে ইসরায়েল ও সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের মধ্যে গত অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও গাজা উপত্যকায় প্রায় প্রতিদিনই ইসরায়েলি হামলা চলছে। এসব হামলায় এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।


