ইরানের কোম শহরে আবাসিক এলাকায় নিহত ১৮
ইরানের কোম শহরের মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১০ জন। গতরাতে এ হামলা পার্দিসানের আবাসিক এলাকায় সংঘটিত হয়েছে।
ফার্স নিউজ এজেন্সি ও তাসনিম জানিয়েছে, প্রথমে ৬ জন নিহতের খবর পাওয়া যায়, পরে তা হালনাগাদ করে ১৮ জন জানানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে ১০ জন রয়েছেন।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, হতাহতদের উদ্ধার করা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে অন্তত ১ হাজার ৯০০ জন নিহত এবং ২০ হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
সূত্র: আল জাজিরা
তারা সাত দিন চেয়েছিল, আমি বলেছি ১০ দিন দেব
ইরান হরমুজ প্রণালী দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলোর তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়াতেই তাদের বিদ্যুৎ অবকাঠামোয় হামলা না করার নির্ধারিত সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ফক্স নিউজের ‘দ্য ফাইভ’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, ইরানের কর্তৃপক্ষ প্রতিশোধের বদলে বিচক্ষণতাকে বেছে নিয়ে চলতি সপ্তাহে নিরাপদে তেলবাহী জাহাজ চলাচল করতে দেওয়ায় তিনি সময় বাড়াতে আগ্রহী হন।
তিনি দাবি করেন, ইরান প্রথমে সাত দিনের সময় বাড়ানোর অনুরোধ করেছিল। তবে তিনি তাদের ১০ দিনের সময় দেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘তারা খুব ভদ্রভাবে আমার লোকদের মাধ্যমে আমার কাছে অনুরোধ করেছে-“আমরা কি একটু বেশি সময় পেতে পারি?” কারণ তাদের সিদ্ধান্ত নিতে খুব কম সময় দেওয়া হয়েছিল। যদি তারা তাদের করণীয় কাজ না করে, তাহলে আমি তাদের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেব।’
‘তারা সাত দিন চেয়েছিল, আমি বলেছি ১০ দিন দেব- কারণ তারা আমাকে জাহাজ চলাচলের সুযোগ দিয়েছে’, যোগ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তার দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বিনা বাধায় জাহাজের চলাচলই প্রমাণ করে যুক্তরাষ্ট্র সঠিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছে। এটিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধপরিস্থিতির একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবেও মনে করেন তিনি।
সূত্র: এবিসি নিউজ
মধ্যপ্রাচ্যের যে হোটেলে মার্কিন সেনা থাকবে, সেখানেই হামলার হুমকি ইরানের

মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের যেসব হোটেলে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা অবস্থান করছে বা করবে, সেগুলোকে যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে লক্ষ্যবস্তু করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
দেশটির ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র আবোলফাজল শেখারচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে বলেন, ‘যখন যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা কোনো হোটেলে অবস্থান করবে, আমাদের দৃষ্টিকোণ থেকে সেই হোটেলই যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে যাবে। আমরা কি শুধু দাঁড়িয়ে থাকব এবং তাদের হামলার শিকার হব? আমাদের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে তাদের অবস্থান নিশ্চিত করে যেকোনো স্থানকেই লক্ষ্য করব।’
এর আগে বৃহস্পতিবার, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের বিরুদ্ধে ইরানের সহযোগী দেশগুলোতে থাকা সাধারণ মানুষকে ‘মানব ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ আনেন।
সামাজিকমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘এই যুদ্ধে শুরু থেকেই মার্কিন সেনারা ইরানের ভয়ে খালিজের সামরিক ঘাঁটি ত্যাগ করে বিভিন্ন হোটেল ও বেসামরিক অফিসে লুকিয়ে আছেন। যারাই তাদের আশ্রয় দিয়েছেন তারাও যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা করছে ইরানকে ধ্বংস করতে।’
আরাগচি ওই অঞ্চলের হোটেলগুলোকে অনুরোধ করেছেন, যেন তারা মার্কিন সেনাদের কোনোধরনের বুকিং না দেয় এবং ইরানের বিরুদ্ধে না যায়। অন্যথায় ভয়াবহ পরিণতির জন্য তাদের প্রস্তুত থাকার হুমকিও দেন তিনি।
তেল সংকট মোকাবিলায় করছাড় দিল ভারত

ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের জেরে জ্বালানি তেল সংকট সামাল দিতে করছাড়ের ঘোষণা দিয়েছে ভারত সরকার। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল নিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশের নেতিবাচক প্রভাব থেকে অভ্যন্তরীণ বাজারকে সুরক্ষিত রাখতে এবং জনগণের মধ্যে স্বস্তি দিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, ভারত সরকারের জ্বালানি তেলের ওপর কর হ্রাসের সিদ্ধান্তের মূল কারণ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। জনগণ উদ্বিগ্ন হয়ে উঠলে বিশাল জনসংখ্যার দেশে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। সে শঙ্কা থেকেই দেশটির সরকার সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
একই সঙ্গে ডিজেল ও এভিয়েশন ফুয়েলের (বিমানের জ্বালানি) রপ্তানিতেও বাড়তি শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে মোদী সরকার। দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে রপ্তানি শুল্ক বাড়ানো হয়েছে।
ভারতের তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশই আমদানি করা হয়, যার মধ্যে রাশিয়া সবচেয়ে বড় সরবরাহকারী। সেই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে শক্তিশালী কূটনৈতিক সম্পর্কের জেরে হরমুজ প্রণালি দিয়েও অনেক তেল আমদানি করে ভারত।
কাজেই হরমুজ প্রণালি প্রায় অচল হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বিশ্বের অন্য দেশের মতো সরবরাহ চাপে পড়েছে ভারতও।
দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তেলের সরবরাহ স্থিতিশীল রয়েছে। তবে সংকটের ভয়ে মানুষ এখনই পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াচ্ছেন।
সতর্ক বার্তায় তারা জনগণকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘মিথ্যা তথ্যের প্রভাবে আতঙ্কিত হবেন না। প্যানিক বায়িং (আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত ক্রয়) থেকে বিরত থাকুন।’
ইরান পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের রুদ্ধদ্বার বৈঠক শুক্রবার

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করতে যাচ্ছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ।
শুক্রবার নিউইয়র্ক সময় সকাল ১০টায় (১৪:০০ জিএমটি) এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে থাকা যুক্তরাষ্ট্রই শুক্রবার বৈঠকের সময়সূচি নির্ধারণ করেছে।
জাতিসংঘের দুইজন কূটনীতিকের বরাতে সংবাদ সংস্থা এপির খবরে বলা হয়, ইরানে বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য রাশিয়া এই বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছে।
এতে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধপরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করবে এবং নিজেদের স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরবে বলে আশা করছেন বিশ্লেষকরা।
ইরানে মার্কিন হামলা স্থগিতের ঘোষণায় বিশ্বের তেল বাজারে স্বস্তি

ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় ১০ দিন মার্কিন হামলা স্থগিতের ঘোষণা আসার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে তেল বাজারে।
বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে আলোচনায় অগ্রগতি হওয়ায় তিনি আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামোগুলোতে হামলা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
শুক্রবার আন্তর্জাতিক সময় ২ টা ৩০ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ দশমিক ০৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড হলো এক ধরনের অপরিশোধিত তেল, যা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম নির্ধারণের অন্যতম প্রধান মানদণ্ড (বেঞ্চমার্ক) হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
একই সময়ে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) তেলের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ১০৬ দশমিক ১২ ডলারে নেমে এসেছে। ডব্লিউটিআই যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত এক ধরনের উচ্চমানের অপরিশোধিত তেল।
শুক্রবার আন্তর্জাতিক সময়ে লেনদেনে তেলের দামের এই সামান্য পতনকে আগের দিনের হুট করে বেড়ে যাওয়ার তুলনায় বেশ নগণ্য বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, যেহেতু ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো ধরনের আলোচনার খবর বারবার প্রত্যাখ্যান করছে, ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে- এমন আশঙ্কায় বাজারে অস্থিরতা এখনো বজায় রয়েছে।
সামগ্রিকভাবেও যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত শুরু হওয়ার পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ এবং ডব্লিউটিআই প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
সুত্র: এপি
ইরানের কোমে মার্কিন-ইসরায়েল যৌথ হামলায় নিহত ৬

ইরানের কোম শহরের একটি আবাসিক এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের বরাতে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ জানিয়েছে, হামলায় শহরের তিনটি আবাসিক বাড়িকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। হামলার পর থেকে স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কোমের উপ-গভর্নর ফার্স নিউজ এজেন্সিকে জানিয়েছেন, আহতদের সঠিক সংখ্যা এখনো জানা যায়নি। উদ্ধারকাজ চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করেন তিনি।
ইরানের রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, ধ্বংসাবশেষের নিচে আটকে পড়াদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। সংস্থাটি আরও জানায়, কোম শহরের পাশাপাশি তেহরানেও তারা উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
রেড ক্রিসেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে এক বার্তায় জানায়, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে জরুরি সেবা জোরদার করা হয়েছে এবং ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের উদ্ধারে নিরলসভাবে কাজ করছে উদ্ধারকর্মীরা।
ইরান যোদ্ধা হিসেবে দুর্বল, বিদ্যুৎ কাঠামোতে হামলা স্থগিতের প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় বেশ কিছু অগ্রগতি হওয়ায় তেহরানকে নতুন উপহার দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, আগামী ৬ এপ্রিল পর্যন্ত ইরানের কোনো বিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর হামলা হবে না।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ২৬ মার্চ থেকে ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোগুলোতে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে ইরান সরকারের অনুরোধে তিনি নিজের ঘোষিত সময়সীমা ১০ দিন পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং তা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে, যদিও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এর ভিন্ন চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে। ইরান সরকারের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ১০ দিনের জন্য এই হামলা স্থগিত করছি।’
নতুন সময়সীমা অনুযায়ী, হামলা স্থগিত থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় আগামী ৬ এপ্রিল রাত ৮টা পর্যন্ত।
এর আগে রোববার ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা শুরু হবে। পরে সোমবার তিনি জানান, ‘গঠনমূলক আলোচনা’ হওয়ায় হামলার সময়সীমা পাঁচ দিন বাড়ানো হয়েছে।
অবশ্য ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো ধরনের আলোচনার দাবি অস্বীকার করেছে। এমন কোনো আলোচনার কথা অস্বীকার করেছে।
বৃহস্পতিবার প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান যোদ্ধা হিসেবে বেশ দুর্বল। তারা যুদ্ধ শেষ করতে ‘সমঝোতার জন্য অনুরোধ করছে’।
তিনি বলেন, ‘তারা (ইরান) বলছে, আমরা আলোচনা করছি না। কিন্তু তারাই আসলে আলোচনার জন্য এগিয়ে এসেছে। আমাদের শক্তির সামনে তারা বিপর্যস্ত। এমন পরিস্থিতিতে কেউ কেন আলোচনা করবে না?’
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘আমরা যতবার আলোচনার টেবিলে গিয়েছে, আমাদের ওপর আঘাত করা হয়েছে। আমরা তাদের (যুক্তরাষ্ট্র) আর বিশ্বাস করি না। আমাদের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে হামলা হলে, মার্কিন স্থাপনায় আমরাও পাল্টা আক্রমণ আরও জোরদার করব।’
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হুট করে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এখনো সমাপ্তির কোনো স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ট্রাম্প প্রশাসনের বক্তব্যেও একাধিকবার পরস্পরবিরোধী তথ্য উঠে এসেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ইরান ও ইরান সমর্থিত প্রতিবেশী সশস্ত্রগোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলা উত্তেজনাকে ক্রমশ বাড়িয়ে তুলছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করলে তা আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর হামলা নিষিদ্ধ। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের ‘ডুয়াল-ইউজ’ বা সামরিক ও বেসামরিক উভয় কাজে ব্যবহৃত স্থাপনাগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করার প্রবণতা বেড়েছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোও ট্রাম্পের পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি নিজেই সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের ইঙ্গিত বহন করে।
অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে তেলবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।
এই প্রণালি পুনরায় চালু করতে ট্রাম্প মিত্র দেশগুলোর সহায়তা চাইলেও ন্যাটোসহ অনেক দেশ এতে সংশয় প্রকাশ করেছে। একই দিনে এক বৈঠকে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান চুক্তির জন্য আগ্রহী, যদিও দেশটি প্রকাশ্যে তা অস্বীকার করছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউস ইরানে স্থল অভিযান চালানোর বিষয়েও চিন্তা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।
ইরান কর্তৃপক্ষের দাবি, সাম্প্রতিক যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ইরানে প্রায় এক হাজার ৯৩৭ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ১৩ জন মার্কিন সেনা সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে আরও বহু হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।


