টানা ভারী বর্ষণে দ্বিতীয় দফায় প্লাবিত হয়ে পানির নিচে তলিয়ে গেছে ফারুয়া বাজারসহ ফারুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম। অন্যান্য উপজেলা ও ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ত্রাণ সামগ্রী পেলেও এখনো ফারুয়াতে পৌঁছায়নি মন্ত্রী, এমপি ও প্রশাসনের কোনো সহায়তা।
ক্ষতিগ্রস্তরা বলছেন, গত ৬ তারিখ রাতে প্রথম দফায় বৃষ্টির পানিতে ডুবে যায় ফারুয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন। এরপর শুক্রবার রাতে পানির নিচে তলিয়ে গেছে ফারুয়া বাজারসহ বিভিন্ন গ্রাম। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ফারুয়া বাজার, গোয়াইনছড়ি, চাইন্দ্যাছড়ি, শুকরছড়ি, এগুজ্যাছড়ি, যমুনাছড়ি, উলুছড়ি, তক্তানালা ও ওরাছড়িসহ বেশ কয়েকটি গ্রামের প্রায় ১২ হাজর মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘরবাড়ি, দোকানপাট, রাস্তা ও কৃষিজমি,পাড়াকেন্দ্রসহ বৌদ্ধদের ধর্মীয় উপসনালয়। এ ছাড়াও ডুবে গেছে রাস্তাঘাট ও বিদ্যালয়।
এদিকে বেশ কয়েকদিন অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পরেও এখনো কোনো মন্ত্রী, এমপি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ত্রাণ সহায়তা পৌঁছায়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

গোয়াইনছড়ি গ্রামের বাসিন্দা নিত্য জয় তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, দ্বিতীয় দফায় ফারুয়া ইউনিয়নের গোয়াইনছড়ি, চাইন্দ্যাছড়ি,শুকরছড়ি, এগুজ্যাছড়ি, যমুনাছড়ি, উলুছড়ি, তক্তানালা ও ওরাছড়ি গ্রাম ডুবে গেছে। শুধু তাই নয়, গতকাল রাতে প্লাবিত হয়ে পানির নিচে তলিয়ে গেছে ফারুয়া বাজার। এতে পাহাড়ি-বাঙালি অনেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
তারাছড়ি গ্রামের বাসিন্দা শিমুল কান্তি তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, ‘আমাদের ফারুয়াবাসীর কোনো রাজনৈতিক নেতা, মন্ত্রী, এমপি নেই। এমনকি আমাদের বিষয়ে প্রশাসনেরও কোনো ভূমিকা নেই। ফারুয়ার মানুষ এতদিন ধরে ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছে। এখনো কোনো সহায়তা নিয়ে কেউ আসেন নি। অথচ ভোটের সময়ে রাজনৈতিক নেতারা ভোট ভিক্ষা চান।’

অন্যদিকে টানা বর্ষণের কারণে রাজস্থলী- ফারুয়ার সীমান্ত অরুণোদয় ভিউ পয়েন্টে পাহাড় ধসে পুরো রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাজস্থলী-ফারুয়া ও জুরাছড়ির দুমদুম্যা ইউনিয়ন পর্যন্ত যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। যার কারণে প্রশাসনের গাড়ি পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন রাঙামাটি জেলা প্রশাসক।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আফরাফী বলেন, ‘ফারুয়ার বিষয়টি জেনেছি। বিলাইছড়ির পানিপথে ত্রাণ নিয়ে দুটি নৌকা রওনা দিয়েছে। ত্রাণ সামগ্রী প্রস্তুত। কিন্তু পানির স্রোত বেশি হওয়ায় নৌকা নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। অন্যদিকে কাটা মাটির স্থানে পাহাড় ধসে পড়ায় গাড়ি নিয়ে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এক্ষেত্রে স্থানীয়দের সহযোগিতা করতে হবে।’


