৫২ ঘণ্টার অনশন শেষে চাকসুতে লড়ছেন সুমাইয়া

৫২ ঘণ্টার অনশন শেষে চাকসুতে লড়ছেন সুমাইয়া
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া। ছবি: সুমাইয়ার ফেসবুক থেকে নেওয়া
Advertisement
Advertisement

দীর্ঘ ৫২ ঘণ্টা অনশন করে আলোচনায় আসা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মোসাম্মৎ সুমাইয়া ওরফে সুমাইয়া শিকদার লড়ছেন কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে।

‘বৈচিত্র্যের ঐক্য’ পর্ষদ থেকে ছাত্রী কল্যাণ সম্পাদক পদে এবারের নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের এই শিক্ষার্থী।

চাকসু নির্বাচনে নিজের অংশগ্রহণ বিষয়ে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, দীর্ঘ ৩৬ বছর পর চাকসু নির্বাচন আয়োজন হচ্ছে। এটা অনেক খুশির সংবাদ।

নিজের লড়াইয়ের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘২০২২ সালের ডিসেম্বরে ক্যাম্পাসে আসার পর সর্বপ্রথম ক্যাম্পাসে চারুকলা আনার আন্দোলনে যুক্ত হই, তারপর শাটল দুর্ঘটনা পরবর্তী আন্দোলন, নারী শিক্ষার্থীকে হেনস্তার বিরুদ্ধে, ফিলিস্তিনের মুক্তিকামী মানুষের পক্ষে, জুলাই অভ্যুত্থানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মাঠে সক্রিয় ছিলাম।’

 

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সুমাইয়া। ছবি: সুমাইয়ার ফেসবুক থেকে নেওয়া

জুলাই গণআন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি লিখেছেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থানে চট্টগ্রাম জেলা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছি, পরবর্তীতে “সমন্বয়ক” শব্দ ব্যবহার করে ক্ষমতার অপব্যবহার শুরু হলে প্রতিবাদ হিসেবে পদত্যাগ করি।’

আরও পড়ুন

অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে নিরাপদ ও শিক্ষার্থীবান্ধব ক্যাম্পাস গড়তে সরব থেকেছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিবাদী কন্ঠস্বর দমাতে বিনা অপরাধে, নিয়ম বহির্ভূতভাবে আমিসহ বিজয় ২৪ হলের ৯ জন নারী শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়। সেসময় প্রচণ্ড মানসিক পীড়ার মধ্যে থেকে নিজের জন্য ও বহিষ্কৃত নারী শিক্ষার্থীদের জন্য আওয়াজ তুলেছি, আন্দোলন করেছি। শেষ পর্যন্ত ঢাকা হাইকোর্টে রিট আবেদন করে সফল হই।’

শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে থেকে অনেকের চক্ষুশূল হয়েছেন কিন্তু কখনও দমে যাননি বলেই পোস্টে উল্লেখ করেন সুমাইয়া শিকদার।

ছাত্রী কল্যাণ সম্পদক পদে কী কী কাজ করবেন সেকথা তুলে ধরে সুমাইয়া বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক, শিক্ষার্থীবান্ধব ও নারীবান্ধব নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়তে নিজের আওয়াজ জারি রাখব। প্রশাসন যেন শিক্ষার্থীবান্ধব ও নিরাপদ ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে, শিক্ষার্থীদের প্রাপ্য অধিকার পূরণ করতে বাধ্য হয় সেজন্য সবার হয়ে নিজের দৃঢ়তা বজায় রেখে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।’

গত ৩০ ও ৩১ আগস্ট স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ প্রশাসনই এ ঘটনার জন্য দায়ী। তাই তারা মনে করেন, এমন প্রশাসন পদে থাকতে পারে না এবং অবিলম্বে তাদের পদত্যাগ করা উচিত। ধারাবাহিক কর্মসূচির পর শিক্ষার্থীরা এ দাবিতে আমরণ অনশনের ঘোষণা দেন।

তারপর সুমাইয়া শিকদার আলোচনায় আসেন আমরণ অনশন শুরু করে। প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগসহ সাত দফা দাবিতে ‘অধিকার সচেতন শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে আমরণ অনশন করেছিলেন তারা।

দীর্ঘ ৫২ ঘণ্টা অনশনের পর ১২ সেপ্টেম্বর বিকালে অনশন ভাঙেন সুমাইয়াসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘ অনশনে অসুস্থ হয়ে পড়া সুমাইয়া গত ১৬ সেপ্টেম্বর হাসপাতালে থেকেই নিয়ম-কানুন মেনে কেন্দ্রীয় সংসদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন বলে জানান।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad