নামসর্বস্ব ১২টি প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ নিয়ে ৪৩৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে প্রশান্ত কুমার হালদার ওরফে পিকে হালদারসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে ১২টি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে দুদক।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড থেকে ভুয়া ও অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে ঋণ অনুমোদন করিয়ে মোট ৪৩৩ কোটি ৯৬ লাখ ১৮ হাহার ৯ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এ ঘটনায় দুদকের জেলা কার্যালয় ঢাকা-১ মোট ১২টি মামলা করে।
দুদকের অনুসন্ধান বলছে, ঋণ গ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অনেকগুলোর কোনো বাস্তব ব্যবসা কার্যক্রম ছিল না। কোথাও কোথাও ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ঋণ নেওয়া হয়েছিল। প্রতিটি ঋণ হিসাবের ক্ষেত্রে এক বা দুটি কিস্তি পরিশোধ করা হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোনো কিস্তিই পরিশোধ করা হয়নি।
তবুও কোনো আপত্তি ছাড়াই বোর্ড সভায় এসব ঋণ পুনঃতফসিল বা রিশিডিউল করা হয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর ঘোষিত প্রধান কার্যালয়ের ঠিকানায় বর্তমানে কোনো অস্তিত্বও পাওয়া যায়নি।
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, ১২টি প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া ঋণের মোট স্থিতি ৪৩৩ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং সুদসহ স্থিতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩১ কোটি ৮ লাখ টাকায়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে— আরিয়ান কেমিক্যালস লিমিটেড, কনিকা এন্টারপ্রাইজ, বি আর ইন্টারন্যাশনাল, দ্রিনান অ্যাপারেলস, জি অ্যান্ড জি এন্টারপ্রাইজ, উইনটেল করপোরেশন, আনান কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ, এমএসটি ফার্মা অ্যান্ড হেলথ কেয়ারসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান।
মামলার আসামিদের মধ্যে পিকে হালদার ছাড়াও রয়েছেন এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালক এবং ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা।
আসামিরা হলেন, রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেড এবং এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদার, এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাবেক চেয়ারম্যান ছিদ্দিকুর রহমান, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাসেল শাহরিয়ার, সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মফিজ উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক পরিচালক নুরুল হক গাজী, সাবেক পরিচালক আবুল শাহজাহান, সাবেক পরিচালক অঞ্জন কুমার রায়, সাবেক পরিচালক কাজী মাহজাবিন মমতাজ, সাবেক পরিচালক সোমা ঘোষ, সাবেক পরিচালক মোস্তাইন বিল্লাহ, সাবেক পরিচালক অরুন কুমার কুন্ডু, সাবেক পরিচালক উদ্ধব মল্লিক, সাবেক পরিচালক আতাহারুল ইসলাম, সাবেক পরিচালক প্রদীপ কুমার নন্দী, সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল হাফিজ, সাবেক পরিচালক বীরেন্দ্র কুমার সোম, সাবেক চেয়ারম্যান মাহফুজা রহমান বেবী, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মোতালিব আহমেদ, সাবেক পরিচালক অনিতা কর, সাবেক পরিচালক উজ্জল কুমার নন্দী, সাবেক পরিচালক মো. মোস্তফা, সাবেক পরিচালক মোস্তফা আমিনুর রশীদ, আরিয়ান কেমিক্যালস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর শরীফ, নিউটেক এন্টারপ্রাইজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাসু দেব ব্যানার্জী, মেসার্স সানসাইন সার্ভিসেসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসিন বিন তানজীর, মীম ট্রেডিং কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওমর ফারুক, আমান টেক্স ইউনিটের ২ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রফিকুল ইসলাম, বি আর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক উৎপল মজুমদার, উইনটেল কর্পোরেশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুকুমার সাহা, কনিকা এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রামপ্রসাদ রায়, জি অ্যান্ড জি এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোপাল চন্দ্র গাঙ্গুলী, জেডএ ট্রেডিং ও দ্রিনান অ্যাপারেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু রাজীব মারুফ, এমএসটি ফার্মা অ্যান্ড হেলথ কেয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অমল চন্দ্র দাস ও আনান কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রিতীশ কুমার হালদার।
আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪০৬, ৪০৯, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারাসহ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদক জানায়, অর্থপাচার ও আর্থিক অনিয়মের এ ঘটনায় তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।


