অচলাবস্থার ৩৬ ঘন্টা পর অবশেষে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা। তাদের দাবি মেনে নেওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও নাটোর থেকে বাস চলাচল শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতেই চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঢাকা বাস স্ট্যান্ড থেকে ছাড়তে শুরু করেছে বিভিন্ন রুটের বাস।
ঢাকায় পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন ও বাস মালিকদের বৈঠকে সিদ্ধান্তের পর ধর্মঘট প্রত্যাহারের কথা নিশ্চিত করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ট্রাক, ট্যাঙ্কলরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাইদুর রহমান।
শ্রমিক ইউনিয়নের কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এখন থেকে দূরপাল্লার বাসে এক ট্রিপের (যাতায়াত) জন্য গাড়ির চালক পাবেন ১ হাজার ৭৫০ টাকা, সুপারভাইজার ৭৫০ এবং চালকের সহযোগী পাবেন ৬৫০ টাকা। এছাড়া গাড়িতে ৩১ জন যাত্রী হলে একটি সিট এবং পুরো গাড়ি যাত্রীতে পরিপূর্ণ হলে দুটি সিটের পরিমাণ ভাড়ার মূল্য তাদের মধ্যে বন্টন করা হবে।
বৃহস্পতিবার থেকে নতুন এই বেতন-ভাতা কার্যকর হবে।
এতদিন গাড়ি চালক ১৩৫০ টাকা, সুপারভাইজার ৬২৫ এবং চালকের সহযোগী (হেল্পার) ৬০০ টাকা পারিশ্রমিক পেতেন।
দূরপাল্লার পরিবহন ন্যাশনাল ট্রাভেলস চাঁপাইনবাবঞ্জ জেলা ম্যানেজার মনিরুজ্জামান বাবলু জানান, একতা পরিবহনের চালক, সুপারভাইজার, ও হেল্পারের বেতন কাঠামো অন্যান্য পরিবহন কোম্পানির চাইতে বেশি ছিল। মূলত এই বিষয় নিয়ে শ্রমিকদের মাঝে ক্ষোভ ছিল। পরে আজ মালিক ও শ্রমিক পক্ষের মধ্যে আলোচনার পর একই বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে।
গ্রামীণ ট্রাভেলস এর জেনারেল ম্যানেজার আসাদুজ্জামান ছানা বলেন, ‘পরিবহন শ্রমিকদের বেতন-ভাতার বৈষম্য দীর্ঘদিনের। ঢাকায় আলোচনার মাধ্যমে বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের পর আজ রাত থেকে আমরা দূরপাল্লার সকল যানবানহন চলাচল শুরু করেছি।’
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা ট্রাক, ট্যাঙ্কলরি ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সাইদুর রহমান জানান, ‘গতকাল পর্যন্ত মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসার বিষয়টি অনিশ্চিত ছিল। আজ বিকালে ঢাকায় শ্রমিক ফেডারেশনের মধ্যস্থতায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও নাটোর জেলার শ্রমিক নেতোদের সঙ্গে বাস মালিকদের আলোচনার পর শ্রমিকদের দাবী পূরণ হয়েছে। ফলে আজ রাত থেকেই আমরা সকল দূরপাল্লার রুটের পরিবহন চলাচল শুরু করেছি।’
বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবীতে সোমবার থেকে দেশ ট্রাভেলস, ন্যাশনাল ট্রাভেলস, গ্রামীণ ট্রাভেলস, হানিফ ও কেটিসি পরিবহনসহ কয়েকটি পরিবহনের শ্রমিক-কর্মচারিরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন করছিলেন। ত
বে একতা পরিবহনের শ্রমিকরা বর্তমান নুতন কাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাওয়ায় তাদের গাড়ি চলাচলা অব্যহত ছিল।


