দুই দশকেরও বেশি সময় পর গাজীপুরে আসছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার আগমন উপলক্ষে জেলায় উজ্জ্বীবিত বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গাজীপুরের ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন তারেক। গাজীপুর মহানগর বিএনপি এ জনসভার আয়োজন করেছে।
নির্বাচনের আগে তারেকের এই জনসভাকে ঘিরে গাজীপুর বিএনপির নেতাকর্মীদের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। ২০ বছর ৯ মাস ২৮ দিন পর তারেক রহমানের আগমনকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বিএনপি। রাজবাড়ী মাঠে মঞ্চ তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
তারেক রহমানের ছোটবেলার নানা স্মৃতিবিজড়িত গাজীপুরের রাজবাড়ী মাঠ ও আশপাশের এলাকাজুড়ে এখন বইছে উৎসবের আমেজ। বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মাঝেও তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে রয়েছে নানা কৌতূহল। নেতাকে এক নজর দেখার জন্য আশপাশের জেলা থেকে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষেরাও গাজীপুরের শহরে আসা শুরু করেছেন।
এদিকে, বিএনপি চেয়ারম্যান ও তার সফর সঙ্গীদের নিরাপত্তায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ও জেলা প্রশাসন তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছেন।
গাজীপুর মহানগর বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত থেকে মঞ্চ নির্মাণ, জনসমাগম ব্যবস্থাপনা, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিকল্পনাসহ সার্বিক বিষয়ে প্রস্তুতি নিয়ে দফায় দফায় আলোচনা করেন।
মহানগর বিএনপির সভাপতি শওকত হোসেন সরকার জানান, মঙ্গলবার বিকালে রাজবাড়ী মাঠে তারেক রহমানের জনসভাকে সফল করার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা সমাবশেস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, এ সমাবেশ গাজীপুরে এ যাবতকালে অনুষ্ঠিত সকল সমাবেশের রেকর্ড ভঙ্গ করবে।
তারেকের সঠিক নির্দেশনায় জেলা সকল নেতারা ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করছেন। এ পর্যন্ত কয়েক দফা প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় ঢাকা বিভাগীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী ছাইয়্যেদুল আলম বাবুল বলেন, ‘দীর্ঘ ২০ বছর পর তারেক রহমান ঐতিহাসিক ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠে জনসভায় ভাষণ দেবেন। এটি শুধু একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, গাজীপুরবাসীর জন্য একটি ঐতিহাসিক মুর্হূত।’
তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা দেশের উন্নয়নে একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ। কৃষি, শিল্প, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেকারত্ব দূরীকরণ ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই কর্মসূচির বাস্তবায়ন নিয়ে জনসভায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা দেবেন।’
গাজীপুর-২ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এবং গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনজুরুল করিম রনি বলেন, ‘ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠ বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। জিয়াউর রহমান, প্রয়াত খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের স্মৃতি বিজড়িত এই স্থানে জনসভা আয়োজন দলীয় ঐতিহ্য ও ধারাবাহিকতার প্রতীক।
তিনি জানান, এর আগে ২০০৫ সালের ২৯ মার্চ তিনি গাজীপুরে শহীদ বরকত স্টেডিয়ামে বিএনপির ইউনিয়ন প্রতিনিধি সম্মলেনে সভাপতিত্ব করেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদে গাজীপুরের পাঁচটি আসনের নির্বাচন উপলক্ষ্যে এই জনসভা। এই সভাকে কেন্দ্র করে জেলা ও মহানগরের সর্বত্র একটি জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে।
ইতোমধ্যে শৃঙ্খলা কমিটি, ব্যবস্থাপনা কমিটি, আপ্যায়ন কমিটি, একটি মেডিকেল টিমের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়া, তারেক রহমান যে রাস্তা দিয়ে প্রবেশ করবেন, সে রাস্তাটি চৌরাস্তা শিবাবাড়ী হয়ে গাজীপুরের ভাওয়াল রাজবাড়ী মাঠ। এই রাস্তাটি যানজট মুক্ত রাখার জন্য দলীয় স্বেচ্ছাসেবক এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ।
এ ছাড়া, অন্যান্য উপজেলা এবং ইউনিট থেকে দলীয় নেতাকর্মীরা আসবেন, সেজন্য বিকল্প রাস্তা নির্ধারণ করা হয়েছে। নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে সেগুলো ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। যাতে কোনো রাস্তায় যেন যানজটের সৃষ্টি না হয়।
বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটি সদস্য মাজহারুল আলম বলেন, ‘তারেক রহমানের বাল্য স্মৃতি বিজড়িত এই রাজবাড়ী মাঠ। এই গাজীপুরের রাজবাড়ী মাঠে চারদিকে থাকা লিচু গাছের লিচু খেয়েছেন। জিয়াউর যখন গাজীপুরে ছিলেন, তখন তারেক রহমান ছোট ছিলেন। এত বছর পরে আমাদের নেতা তারেক রহমান গাজীপুরে আসছেন সেজন্য গাজীপুরের নেতাকর্মীর এবং সাধারণ জনগণ অনুপ্রাণিত।’


