খামারিরা প্রতিটি ডিমে প্রায় দুই টাকা করে লোকসান গুনছেন বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি বলেন, ‘উৎপাদন খরচ বাড়লেও খামারিরা বাধ্য হয়ে কম দামে ডিম বিক্রি করছেন।’
রোববার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে প্রাণিসম্পদ খাত নিয়ে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ক্ষুদ্র খামারিদের টিকিয়ে রাখা জরুরি, কারণ তারা না থাকলে বড় খামারিরাও টিকে থাকতে পারবে না। বর্তমানে একটি ডিম উৎপাদনে প্রায় ৯ টাকা খরচ হলেও খামারিরা সাত টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে প্রতিটি ডিমে দুই টাকা করে লোকসান হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পোল্ট্রি খাত দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০৩০ সালের মধ্যে এ খাতকে রপ্তানিমুখী পর্যায়ে নিয়ে যেতে সরকার কাজ করছে এবং এ খাতে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’
পোল্ট্রি খাত সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে জনস্বার্থে কাজ করতে হবে। কোনো ধরনের অসততা বরদাস্ত করা হবে না।’ খামারি, ফিড উৎপাদক, বাচ্চা উৎপাদনকারী এবং বাজারজাতকারীদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি জানান, সরকার ও কিছু প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন আমদানি করে থাকে। এ ক্ষেত্রে আমদানিকারকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে, যাতে খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত না হন এবং ভোক্তাদের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রণালয়ের সচিব বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে সরকার শতভাগ সহযোগিতা দেবে। একই সঙ্গে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রি সেন্ট্রাল কাউন্সিলের সভাপতি মসিউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, ওয়ার্ল্ড পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ শাখার সভাপতি শামসুল আরেফিন খালেদ এবং ফিড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের জেনারেল সেক্রেটারি আনোয়ারুল হক।
সভায় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পোল্ট্রি খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং খামারিরা উপস্থিত ছিলেন।


