তুরস্কে গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিকেজ হওয়ায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে কক্ষে থাকা তিন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় একজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার ভোর ৫টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য তুরস্কের একটি হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
নিহতরা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর এলাকার মেড্ডা গ্রামের মৃত ইয়াকুব মিয়ার ছেলে তারেক মিয়া (৪৫) ও তার একমাত্র ছেলে সাব্বির (২২)। এ ছাড়া ফেনী জেলার এক যুবকও এ ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তবে তার পরিচয় এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
এ ঘটনায় নিহত সাব্বিরের সঙ্গে থাকা তার চাচাতো ভাই লিটন (২৬) গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, তুরস্কের একটি ভবনের আন্ডারগ্রাউন্ড কক্ষে তারা একসঙ্গে বসবাস করতেন। মঙ্গলবার রাতে সেহেরি খাওয়ার পর ভোরে সবাই ঘুমিয়ে পড়েন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই সময় গ্যাস সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে কক্ষে অক্সিজেনের স্বল্পতা দেখা দেয়। ঘুমন্ত অবস্থায় শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তারেক মিয়া, সাব্বির ও অপর যুবকের মৃত্যু হয়।
পরে স্থানীয়রা লিটনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করেন। এ সময় স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়।
জানা গেছে, তারেক মিয়া প্রায় ১৪ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে তুরস্কে যান। দেড় বছর আগে তিনি ছেলে সাব্বিরকে সেখানে নিয়ে যান। সাব্বিরের মা বেঁচে নেই।
এদিকে সাব্বিরের খালা লুতফা বেগম বলেন, ‘হঠাৎ এমন দুর্ঘটনায় আমরা বাকরুদ্ধ। পরিবারে মাতম চলছে। সবার কাছে দোয়া চাই।’
এ ছাড়া মরদেহ দেশে আনার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি জানান, সরকারের সহযোগিতা ছাড়া মরদেহ আনা সম্ভব নয়।


