২৭তম বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষার নিয়োগবঞ্চিত ৬৭৩ জনকে নিয়োগ দিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের নব নিয়োগ শাখা থেকে এই গেজেট প্রকাশ করা হয়।
৬৭৩ জনের মধ্যে প্রশাসন ক্যাডারের ৯০ জন, পুলিশ ক্যাডারের ৭০ জন, অডিট ক্যাডারের পাঁচজন, আনসার ক্যাডারের একজন, কর ক্যাডারের একজন, সমবায় ক্যাডারের পাঁচজন, খাদ্য ক্যাডারের দুজন প্রমুখ।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশ অনুযায়ী ৬৭৩ জনকে বিসিএসের বিভিন্ন ক্যাডারের প্রবেশ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তারা জাতীয় বেতনস্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ২২ হাজার থেকে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা বেতন পাবেন।
নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্তদের বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র অথবা সরকার নির্ধারিত প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ নিতে হবে।
বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে নিজ নিজ ক্যাডারভিত্তিক পেশাগত ও বিশেষ প্রশিক্ষণ নিতে হবে। তাদের দুই বছর শিক্ষানবিশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রয়োজনে সরকার এ শিক্ষানবিশকাল আরও বাড়াতে পারবে।
শিক্ষানবিশকালে কাউকে চাকরিতে অনুপযুক্ত মনে হলে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা যাবে।
প্রশিক্ষণ সফলভাবে শেষ করা, বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া এবং শিক্ষানবিশকাল সন্তোষজনকভাবে সম্পন্ন হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে স্থায়ী করা হবে।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, প্রশিক্ষণের জন্য কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি নিতে হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অঙ্গীকারনামা জমা দিতে হবে। পাশাপাশি একজন জামানতদারসহ ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে বন্ড করতে হবে।
শিক্ষানবিশকালে বা শিক্ষানবিশকাল শেষ হওয়ার তিন বছরের মধ্যে চাকরি ছাড়লে প্রশিক্ষণকালে প্রাপ্ত বেতন-ভাতা ও সরকারের ব্যয় করা অর্থ ফেরত দিতে হবে।
চাকরি থেকে ইস্তফা দেওয়ার আগে দায়িত্বে অনুপস্থিত থাকলে সরকারি বিধি অনুযায়ী অর্থ আদায় ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিয়োগপ্রাপ্তদের জ্যেষ্ঠতা অক্ষুণ্ণ রাখতে তাদের ব্যাচের প্রথম নিয়োগ প্রজ্ঞাপন জারির তারিখ থেকে ভূতাপেক্ষিকভাবে নিয়োগ কার্যকর হবে। তবে এর ফলে তারা কোনো বকেয়া আর্থিক সুবিধা পাবেন না।
এতে আরও বলা হয়, নিয়োগ পরবর্তী কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কোনো রকম বিরূপ/ভিন্নরূপ তথ্য
পাওয়া গেলে তার ক্ষেত্রে এই আদেশের প্রয়োজনীয় সংশোধন/বাতিল করার অধিকার কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করে।
২৭তম বিসিএসের প্রথম মৌখিক পরীক্ষায় ৩ হাজার ৫৬৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।
২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিল করে এবং দ্বিতীয় মৌখিক পরীক্ষা গ্রহণ করে।
প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিলের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উত্তীর্ণ প্রার্থীরা রিট আবেদন করেন।
২০০৮ সালের ৩ জুলাই হাইকোর্ট ২৭তম বিসিএস পরীক্ষার প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিলকে বৈধ ঘোষণা করে।
সেই রায়ের বিরুদ্ধে রিট আবেদনকারীরা গত ফেব্রুয়ারিতে আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করেন।
পরে আপিল বিভাগ এই বিসিএস পরীক্ষার নিয়োগবঞ্চিত ১ হাজার ১৩৭ জনকে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এর মধ্য থেকে ৬৭৩ জনকে নিয়োগ দিয়ে গেজেট প্রকাশ করল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।


