ইতিহাস গড়ার রোমাঞ্চ যখন চোখেমুখে, তখন ঘুমের চেয়ে ফুটবলটাই হয়তো বেশি প্রিয় হয়ে ওঠে। তাই তো কাকডাকা ভোরেই দেখা গেল পিটার বাটলারের শিষ্যদের শেষ মুহূর্তের ঘাম ঝরানো প্রস্তুতি। গত কয়েকদিন সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার না থাকলেও শেষ দিনে অবারিত ছিল দুয়ার। মাঠের সেই সিরিয়াস অনুশীলনের আবহ জানান দিচ্ছিল, আফঈদা-ঋতুপর্ণা চাকমারা কেবল অংশ নিতে যাচ্ছেন না, লড়াই করতেই অস্ট্রেলিয়া যাচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় বাফুফে ভবনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নিজেদের শেষ প্রস্তুতির কথা জানাবে দল। এরপর মধ্যরাত ২টায় সিডনির উদ্দেশে ডানা মেলবে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ১ থেকে ২১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ার তিনটি শহরে বসবে এশিয়ান নারী ফুটবলের এই মহাযজ্ঞ। গ্রুপ ‘বি’-তে বাংলাদেশের সঙ্গী হিসেবে আছে নয়বারের চ্যাম্পিয়ন উত্তর কোরিয়া, তিনবারের শিরোপাজয়ী চীন এবং উজবেকিস্তান। ৩ মার্চ সিডনিতে চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে বাংলাদেশের স্বপ্নযাত্রা।
এশিয়ান কাপের মতো বড় মঞ্চে খেলার শিহরণ ছুঁয়ে গেছে ফুটবলারদের ব্যক্তিগত জীবনেও। মাঠের বাইরেও যে তারা কতটা প্রাণোচ্ছল, তার প্রমাণ মিলল ঋতুপর্ণা চাকমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে। বিশ্রামের ফাঁকে রিকশায় চড়ে বেড়ানোর একটি ছবি পোস্ট করে তিনি যেন নিঃশব্দেই জানিয়ে দিলেন, এবার গন্তব্য আরও অনেক দূরে।
প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে অবশ্য একটা চোরা আক্ষেপ রয়েই গেছে। অনূর্ধ্ব-১৯ সাফ খেলে আসা একঝাঁক প্রতিভার সাথে সুইডেনপ্রবাসী আনিকাকে নিয়ে দল গুছিয়েছেন কোচ বাটলার। তবে কোচের চাওয়া অনুযায়ী বিদেশে কোনো কন্ডিশনিং ক্যাম্পের ব্যবস্থা করতে পারেনি ফেডারেশন। শুরুতে থাইল্যান্ডে ক্যাম্প করার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তা বাতিল হয়। তবে বাফুফে কর্তারা এবার কিছুটা আগেভাগেই দলকে অস্ট্রেলিয়া পাঠাচ্ছেন। লক্ষ্য একটাই, সিডনির কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে স্থানীয় কোনো ক্লাবের বিপক্ষে অন্তত একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলা।
দেশ ছাড়ার আগে অবশ্য উষ্ণ অভ্যর্থনায় সিক্ত হয়েছেন মেয়েরা। বুধবার বিকেলে ঢাকার অস্ট্রেলিয়ান হাই কমিশনে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে গিয়েছিলেন মারিয়া মান্ডা-মনিকা চাকমারা। সেখানে এশিয়া কাপের লোগো খচিত কেক কাটেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল ও অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার। ডেপুটি হাই কমিশনারের সঙ্গে আড্ডায় আর খুনসুটিতে কেটেছে অনেকটা সময়। কেউ রিকশার সামনে পোজ দিয়েছেন, কেউ বা আবার দেখিয়েছেন বল নিয়ে পায়ের কারুকাজ। বাফুফে সভাপতি এ সময় ডেপুটি হাই কমিশনারকে ‘সুশান’ নাম লেখা বাংলাদেশ দলের জার্সি ও স্যুভেনিয়ার বল উপহার দেন।
গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য এখন উজবেকিস্তান। ৯ মার্চ পার্থে সমশক্তির এই দলটির বিপক্ষে জয় তুলে নিতে পারলে সেরা দুই রানার্সআপের একটি হয়ে পরবর্তী রাউন্ডে যাওয়ার সমীকরণ মিলিয়ে ফেলা সম্ভব হতে পারে। কঠিন গ্রুপ, প্রস্তুতির সীমাবদ্ধতা, সব ছাপিয়ে এখন কেবলই অস্ট্রেলিয়ার নীল দিগন্তে ওড়ার অপেক্ষা।


