দেশের গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল নিত্যপণ্যের সরবরাহব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক ডেটা বিশ্লেষণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এক্ষেত্রে প্রস্তাবিত এআই প্ল্যাটফর্ম ১০ বছরের উৎপাদন, আমদানি-রপ্তানি ও আন্তর্জাতিক বাজারের তথ্য বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য সরবরাহ সংকটের আগাম পূর্বাভাস দেবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ই-কমার্স বাস্তবায়নবিষয়ক এক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষি, খাদ্য, শিল্পসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা সংবেদনশীল পণ্য নিয়ে কাজ করলেও তথ্য বিশ্লেষণের জন্য সমন্বিত একটি প্ল্যাটফর্মের অভাব রয়েছে। কোন পণ্য স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত, কোনটি আমদানিনির্ভর এবং কোথায় দেশীয় উৎপাদন ও আমদানির সমন্বয় প্রয়োজন—এসব তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, বাজারে মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম কারণ সরবরাহ সংকট। উৎপাদন বা আমদানিতে সমস্যা দেখা দেওয়ার আগেই সম্ভাব্য ঘাটতি চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া গেলে বাজারে অস্থিতিশীলতা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব হবে। এ জন্য ডাল, পেঁয়াজসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের স্থানীয় উৎপাদন, মৌসুমি ঘাটতি, আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি এবং রপ্তানিকারক দেশগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা নিয়মিত বিশ্লেষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মন্ত্রী জানান, বর্তমানে এ ধরনের তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় এবং একাধিক সভার প্রয়োজন হয়। এআইভিত্তিক ব্যবস্থা চালু হলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই প্রয়োজনীয় বিশ্লেষণ পাওয়া যাবে, যা দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক হবে।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি কৃষি, খাদ্যসহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে সম্পৃক্ত করা হবে। সরকারি তথ্যের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ওপেন সোর্স ও সাবস্ক্রিপশনভিত্তিক নির্ভরযোগ্য তথ্য ব্যবহার করে একটি সমৃদ্ধ ডেটাবেজ গড়ে তোলা হবে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, পর্যায়ক্রমে এআইভিত্তিক এই ব্যবস্থা মানুষের তুলনায় আরও দ্রুত ও কার্যকর বিশ্লেষণ দিতে সক্ষম হবে। এর মাধ্যমে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ হবে, বাজার ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী হবে এবং ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সভায় ই-কমার্স খাতের উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর বাজার ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়।


