নন্দিত লেখক ও পরিচালক হুমায়ূন আহমেদ শিল্পের যে সেক্টরে হাত দিয়েছেন সেখানেই সোনা ফলেছে। উপন্যাসের পাশাপাশি তার লেখা কিংবা নির্মিত নাটক, সিনেমা দর্শক নন্দিত হয়েছে। ‘আজ রবিবার’, ‘কোথাও কেউ নেই’, ‘উড়ে যায় বকপক্ষী’র মতো বিখ্যাত নাটক, ‘আগুনের পরশমণি’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’, ‘দুই দুয়ারি’র মত সিনেমাও তিনি নির্মাণ করেছেন।
তার গল্পে নির্মিত হয়েছে ‘আবদার’, ‘শঙ্খনীল কারাগার’, ‘দারুচিনি দ্বীপ’, ‘নন্দিত নরকে’, ‘নিরন্তর’, ‘প্রিয়তমেষু’, ‘দূরত্ব’, ‘অনিল বাগচীর একদিন’, ‘দেবী’র মতো সিনেমা। কিন্তু সম্প্রতি তার গল্পে নাটক, সিনেমা নির্মাণ কমে গেছে। বলতে গেলে হচ্ছেই না। অভিযোগ আছে হুমায়ূন আহমেদের পরিবার এ ক্ষেত্রে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।
এ সময়ের অন্যতম সেরা নির্মাতা বলা হয় অমিতাভ রেজাকে। তিনি ২০২০-২১ এ হুমায়ূন আহমেদের লেখা ‘পেন্সিলে আঁকা পরী’ উপন্যাসের জন্য ৬০ লাখ টাকা অনুদান পেয়েছিলেন। অমিতাভ রেজা জানিয়েছেন, তিনি অনুদানের জন্য চিত্রনাট্য জমা দেওয়ার আগেই হুমায়ূন পরিবারের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নিয়েছিলেন।
কিন্তু পরবর্তীতে তিনি জানান, ‘পেন্সিলে আঁকা পরী’ সিনেমাটি বানাচ্ছেন না। কারণ হিসেবে তিনি জানান, হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী ও সন্তানদের সমন্বয়ে গঠিত ট্রাস্টি বোর্ড এই চলচ্চিত্রের গল্পের জন্য বড় অঙ্কের অর্থ এবং সেই সঙ্গে চলচ্চিত্র মুক্তির পর এর আয়ে অংশিদারিত্ব চাওয়ার কারণেই এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গত ১৩ জুলাই টাইমস অব বাংলাদেশকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা ফারুক আহমেদ জানান, তিনি হুমায়ূন আহমেদের লেখা ‘আয়না’ গল্পটি নিয়ে নাটক বানাতে চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। আমি বেশকিছু দৃশ্য লিখে রেখেছিলামও। আমার বিশ্বাস আমি খারাপ পরিচালনা করতাম না। ভবিষ্যতে যদি অনুমতি পাই তাহলে বানাব।’
হুমায়ূন আহমেদের গল্প উপন্যাসের কপিরাইট পাওয়া আসলেই কি কঠিন? কী বলছে তার পরিবারের সদস্যরা।
জানা গেছে, হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুর পর তার পরিবারের সকল সদস্যরা মিলে কপিরাইটের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেন। এতে সদস্য হিসেবে আছেন তার স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন, সন্তানরা ও তার ভাই-বোনেরা।
হুমায়ূন আহমেদের সন্তান নুহাশ হুমায়ূন অনুমতি না দেওয়ার ব্যাপারে বলেন, ‘কোনো লেখককের লেখা নিয়ে কিছু নির্মাণ করতে গেলে তো তার অনুমতি লাগবে। এখন যেহেতু লেখক বেঁচে নেই তাই পরিবারের অনুমতি লাগবে। আর পরিবার হিসেবে আমাদের কারও কাছ থেকে এ ব্যাপারে কোনো বাধা নেই।’
অভিযোগ রয়েছে আপনারা নানান শর্ত দেন কিংবা বড় অঙ্কের টাকা চান কপিরাইট বাবদ। নুহাশ বলেন, ‘এ ব্যাপারটা একদমই সত্যি না। ব্যাপারটা যেটা হয়েছে, কেউ কেউ আমাদের সঙ্গে আলাপ না করেই কাজ শুরু করে দিয়েছিল। আমাদের দেশে কপিরাইট ব্যাপারটা কেউ সিরিয়াসলি নেয় না।’
অমিতাভ রেজার ইস্যুতে তিনি বলেন, ‘উনি প্রথমে আমাদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন, তিনি ‘পেন্সিলে আঁকা পরী’ অনুদানে জমা দিবে। আমাদের কোনো আপত্তি আছে কিনা?’ আমরা আপত্তি নেই জানিয়েছিলাম। কারণ ব্যক্তিগতভাবে আমি ওনার কাজ সম্পর্কে জানি এবং আমার একটা কাজও হয়েছিল।’
‘অনুদান পাওয়ার পর তিনি টাকা-পয়সার বিষয়টা বললো, এটা দিতে পারবে, এটা পারবে না। উনি আমাদের সঙ্গে ঠিকঠাক আলাপ না করেই পাবলিকলি একটা বক্তব্য দিলেন। এটা না দিলেও পারতেন। বড় অঙ্কের টাকা চাওয়ার যে ব্যাপারটা–সেটা আসলে এমন ছিল না’, বলেন নুহাশ।
সম্প্রতি তানিম নূর ‘কিছুক্ষণ’ উপন্যাসের জন্য অনুমতি পেয়েছেন। ওনারা যদি অনুমতি প্রক্রিয়া কঠিন করেই রাখতেন তাহলে কীভাবে তানিম অনুমতি পেলেন, এমন প্রশ্ন রাখেন নুহাশ। তিনি বলেন, ‘তানিম নূর সরাসরি বলেছে সে এটা নির্মাণ করতে চায়, এ এ পারবে, এ এ পারবে না। তানিম স্ট্রেট ফরওয়ার্ড থাকায় বিষয়গুলো খুব সহজেই সমাধান হয়ে গেছে। কেউ যদি চায় বিষয়গুলোকে জটিল করবে, তাহলে জটিল করায় যায়।’


