আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুমের ঘটনায় পতিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ২০ মে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য করা হয়েছে। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এ দিন ধার্য করে। প্রসিকিউটর ও বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর জোহা টাইমসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, গত বছরের ৬ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ মামলায় শেখ হাসিনা, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা তারেক সিদ্দিকীসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের সূত্র মতে, আওয়ামী লীগের শাসনামলে ১৫ বছরের শাসনামলে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি তত্ত্বাবধানে গুম সংঘটিত হয়েছে। গুমের জন্য তাকে ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’ হিসেবে দায় নিতে হবে। গুম অবস্থা থেকে যাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, সেটাও শেখ হাসিনার নির্দেশে হয়েছে। একজন ব্যক্তির ক্ষমতা নিরঙ্কুশ করার জন্য এসব গুম সংঘটিত হয়েছে।
প্রসিকিউশন জানায়, গুমের অপরাধ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অপরাধ। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় বছরের পর পর বছর শত শত মানুষকে আয়নাঘরে আটকে রেখে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। আর গুমের জন্য পুলিশ ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বিদেশে পাঠানো, প্রমোশন দেওয়াসহ নানা প্রলোভন দেখানো হতো। এবার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করে বাহিনীগুলোকে দায়মুক্ত করা হবে।
গুমের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুটি মামলায় বিচার চলছে। র্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম ও ডিজিএফআই পরিচালিত জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেন্টারে (জেআইসি) গুমের ঘটনায় দুটি মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে।
জেআইসিতে গুমের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা এবং বর্তমান ও সাবেক ১২ সেনা কর্মকর্তাকে আসামি করা হয়েছে। টিএফআই সেলে গুমের অপর মামলায় হাসিনা ও ১০ সেনা কর্মকর্তাসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।


